ঢাকা,  শনিবার   ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ দাবি বিজেপি এমপির

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৩, ৭ নভেম্বর ২০২৬
নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ দাবি বিজেপি এমপির
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেট অঞ্চল ভারতের ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

নিশিকান্ত দুবে বলেন, ১৯৪৬-৪৭ সালে তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের শাসকের মতামত উপেক্ষা করে এসব অঞ্চল পূর্ব পাকিস্তানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, ১৯৪৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় মুসলিম লীগের সমর্থন পেতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রামকে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হতে দিয়েছিলেন।

এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে বিজেপির এই সংসদ সদস্য বলেন, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নেহরুর আমলে হস্তান্তর করা অঞ্চলগুলোও ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে। এসব অঞ্চলের মধ্যে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেট রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নিশিকান্ত দুবের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ত্রিপুরার প্রয়াত রাজপরিবারের উত্তরসূরি এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল তিপ্রা মোথার প্রধান প্রদ্যোত মাণিক্য। তিনি দাবি করেন, দেশভাগের সময় তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের বিশাল এলাকা তাঁর দাদিকে অন্ধকারে রেখে পূর্ব পাকিস্তানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়।

প্রদ্যোত মাণিক্য আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর পূর্ব পাকিস্তানের হাতে যাওয়ার কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সরাসরি সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন বাংলাদেশে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সমুদ্রপথে যোগাযোগের সুযোগ থাকলে শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে দেশটিকে উদ্বিগ্ন হতে হতো না।

নিশিকান্ত দুবে আরও দাবি করেন, ১৯৪৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থাকা জওহরলাল নেহরু মুসলিম লীগের সমর্থন পেতে আগ্রহী ছিলেন। অন্যদিকে, ত্রিপুরার তৎকালীন রাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন।

বিজেপির এই সংসদ সদস্যের দাবি, এ বিষয়ে নেহরুর সঙ্গে রাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যের বিরোধ হয়েছিল। রাজা প্রশ্ন তুলেছিলেন, নোয়াখালী কীভাবে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া যায়, সিলেটে কীভাবে গণভোট আয়োজন করা যায় এবং চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত কে নেবে।

তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!