ঢাকা,  শনিবার   ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

মার্কিন গণমাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে এল-সায়েদের বক্তব্য

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৮, ৭ নভেম্বর ২০২৬
মার্কিন গণমাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে এল-সায়েদের বক্তব্য
মার্কিন সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও গণমাধ্যমে মুসলিম পরিচয় নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আলোচনায় এসেছেন আবদুল এল-সায়েদ। সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দেশটির বিভিন্ন প্রভাবশালী গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন তিনি। এসব সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, ধর্মীয় বিশ্বাস, জাতিগত পরিচয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলছেন।

লেখাটিতে বলা হয়েছে, এমএস নাউয়ের ‘মর্নিং জো’, সিএনএন ও এবিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে এল-সায়েদ নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরছেন। অপ্রাসঙ্গিক বিতর্কে না জড়িয়ে মূল বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার বিষয়টিও লেখকের দৃষ্টিতে তাঁর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

লেখকের মতে, অতীতে মুসলিমদের নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল—এমন কিছু প্রভাবশালী গণমাধ্যমে এখন এল-সায়েদ গুরুত্ব পাচ্ছেন। তাঁর সাক্ষাৎকারে ‘হাবিবি’, ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’র মতো আরবি শব্দের ব্যবহারও আমেরিকান দর্শকদের কাছে মুসলিম সংস্কৃতির পরিচিতি বাড়াচ্ছে।

লেখাটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার পরও নিজের বক্তব্য ও অবস্থান পরিবর্তন করেননি এল-সায়েদ। মুসলিম পরিচয়, ধর্মবিশ্বাস, গাজা পরিস্থিতি, যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও বৈশ্বিক অবিচার নিয়ে আগের মতোই কথা বলছেন তিনি।

লেখাটিতে আরও বলা হয়েছে, ইহুদি ধর্মবিশ্বাস ও জায়নবাদকে এক করে দেখার বিরোধিতা করেন এল-সায়েদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইহুদি, মুসলিম কিংবা কোনো ধর্মে বিশ্বাসী নন—এমন সবার সন্তানের নিরাপত্তাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সন্তানদের নিরাপত্তার মতোই অন্য সম্প্রদায়ের শিশুদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

নির্বাচনের আগে যেসব অবস্থান নিয়েছিলেন, নির্বাচনের পরও সেগুলো থেকে সরে আসেননি বলে লেখকের পর্যবেক্ষণ। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিমদের বিশ্বাস, অনুভূতি ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিষয়গুলো মূলধারার আলোচনায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

লেখায় আরও বলা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখেও এল-সায়েদ নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। পাল্টা বক্তব্য দিয়ে তিনি এসব আক্রমণের জবাব দিয়েছেন। ট্রাম্পকে ‘ইডিয়ট’ এবং ভ্যান্সকে ‘বিবেকহীন’ বলার বিষয়টিও লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।

লেখকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে একজন মুসলিম রাজনীতিকের সরাসরি ও দৃঢ়ভাবে মতবিনিময়ের ঘটনা মুসলিম তরুণদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় আড়াল না করেও রাজনীতিতে নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব—এমন বার্তা দিচ্ছেন এল-সায়েদ।

উত্তর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা মুসলিম শিশু-কিশোরদের জন্য তাঁকে অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে দেখছেন লেখক। তাঁর উত্থান নতুন প্রজন্মকে নিজেদের পরিচয়, বিশ্বাস ও আদর্শ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

লেখাটির শেষাংশে বাংলাদেশের তরুণদেরও এল-সায়েদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। লেখকের প্রত্যাশা, তরুণেরা নিজেদের যোগ্যতা, আত্মবিশ্বাস ও আদর্শকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!