ইমরান খানের তিন বোনের আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের তিন বোনের ৩০ দিনের আটকাদেশের বিরুদ্ধে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত মুক্তিরও আবেদন জানানো হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইমরানের বোন আলিমা খানের ছেলে শাহরাইজ খান আইনজীবী রানা মুদাসসার উমরের মাধ্যমে আবেদনটি করেন। এতে তার মা আলিমা খান এবং ইমরানের অন্য দুই বোন উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকের বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশ বাতিল করে তাদের মুক্তির অনুরোধ জানানো হয়েছে।
.png)
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর লাহোরের ডেপুটি কমিশনার পাঞ্জাব মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (এমপিও) অধ্যাদেশের ৩ নম্বর ধারায় আলিমা খানকে ৩০ দিনের জন্য আটক রাখার আদেশ দেন। পরদিন একই আইনে উজমা খান ও নরিন নিয়াজিককেও ৩০ দিনের আটকাদেশ দেওয়া হয়। তিনজনকেই লাহোরের কোট লাখপত জেলে রাখার কথা জানানো হয়েছে।
আবেদনে শাহরাইজ খানের দাবি, লাহোরের ডেপুটি কমিশনার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই আটকাদেশ জারি করেছেন। তার ভাষ্য, আলিমা খানকে ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার সময় আটক করা হয় এবং সে সময় জনশৃঙ্খলা বা জননিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আটকাদেশে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি।
তবে লাহোর প্রশাসনের আদেশে উজমা খান ও নরিন নিয়াজিককে জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদেশে অভিযোগ করা হয়, তারা অতীতে ৯ মে-র বিক্ষোভে জড়িত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসমাবেশের মাধ্যমে আবারও কর্মীদের সংগঠিত করছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলেও প্রশাসনের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিটিআই ও ইমরান খানের পরিবারের পক্ষ থেকে আটকাদেশের বিরোধিতা করা হয়েছে। ইমরানের ছেলে কাসিম খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, তার খালা উজমা ও নরিনসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে তাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং কেন আটক করা হয়েছে সে বিষয়ে তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এসব অভিযোগ অবশ্য পরিবারের পক্ষের বক্তব্য।
ইমরান খানের তিন বোনের আটকাদেশের বিষয়টি সামনে এসেছে পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে। দলটি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ওই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
আটকাদেশ বাতিলের আবেদনটি এখন লাহোর হাইকোর্টে বিচারাধীন। আদালত আজ (২২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি শুনানির জন্য নিতে পারে বলে ডন জানিয়েছে।