বান্দরবানে সমবায় দিবসে ঋণের চেক ও পুরস্কার বিতরণ
‘করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে বান্দরবানে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, ঘূর্ণায়মান ঋণের চেক ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদ ও জেলা সমবায় বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু এমপি। সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের সদস্য লুসাই মং মারমা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ সরদার পিপিএম, জেলা পরিষদের সদস্য ও সমবায় বিভাগের আহ্বায়ক ক্যউ প্রু খিয়াং, বাংলাদেশ বেতার বান্দরবানের আঞ্চলিক পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ওসমান গনি ও মজিবুর রশিদ এবং বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি নাছিরুল আলম। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সমবায় সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বান্দরবানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমবায় আন্দোলনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী ও যুবসমাজকে সমবায়ের আওতায় এনে সহজ শর্তে পুঁজি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটে উৎপাদনমুখী উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করতেও সমবায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু বলেন, সমবায় শুধু ঋণ বিতরণের ব্যবস্থা নয়, বরং মানুষের সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার কার্যকর মাধ্যম। পাহাড়ের কৃষি, পর্যটন, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ উৎপাদনশীল বিভিন্ন খাতে সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ, পুঁজি ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা গেলে বান্দরবানের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে ম্রোসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অতীতেও বিভিন্ন সরকার ও রাষ্ট্রনায়ক উদ্যোগ নিয়েছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান, যোগাযোগব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। উন্নয়নের সেই ধারাকে এগিয়ে নিতে মানুষের অংশগ্রহণভিত্তিক সমবায় আন্দোলন আরও শক্তিশালী করতে হবে।
জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা বলেন, সমবায় কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সম্ভব। নতুন উদ্যোক্তাদের সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ের কৃষিপণ্য ও স্থানীয় উৎপাদিত সামগ্রীর বাজার সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সমবায় সমিতিগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন সমবায় সমিতি ও উপকারভোগীদের মধ্যে ঘূর্ণায়মান ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সমবায় কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় ব্যক্তি ও সমিতিকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে লুসাই মং মারমা বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমবায়ী সদস্যদের নিষ্ঠা, সততা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।