ঢাকা,  সোমবার   ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

সমঝোতা ছাড়াই শেষ ইরান-কাতার আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:৩৫, ২ নভেম্বর ২০২৬
সমঝোতা ছাড়াই শেষ ইরান-কাতার আলোচনা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ইরান। তবে কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দিনের আলোচনা শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য সমঝোতা হয়নি। দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এদিকে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরুর আশঙ্কাও কাটেনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। তবে বিষয়টি বেশ জটিল। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা বিনিময় হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তি হচ্ছে যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের প্রস্তাবিত সাত দফা পরিকল্পনা। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিকল্পনাটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, যাতে দুই দিনের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানি প্রতিনিধিরা কয়েক দিন ধরে আলোচনা করেন। রোববার তারা দোহা ছাড়েন। তবে আলোচনায় কোনো জটিলতা বা মতবিরোধের কারণে তারা চলে গেছেন, এমনটি নয় বলে জানিয়েছেন আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা। এদিকে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আবারও বৈঠক হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের শর্ত

ইরানের সাত দফা প্রস্তাবের অন্যতম শর্ত হলো দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ বন্ধের বিষয়ও রয়েছে। এসব শর্ত বাস্তবায়নের পর অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করতে চায় তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের দাবি মেনে নেওয়া এবং দেশটির বৈধ স্বার্থের বিষয়গুলো সমাধান না হলে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে না। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ও এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এসব শর্ত পূরণ জরুরি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এর আগে জানিয়েছিলেন, চুক্তি হলে সাত দিনের পরিবর্তে মাত্র দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। তবে সেপ্টেম্বরে ইরানের দেওয়া মূল সাত দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ ছাড়া ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে তেহরান। দেশটির বক্তব্য, তাদের শর্তগুলো পূরণ হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের পরই কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সম্ভব।

যুদ্ধের আশঙ্কা, উদ্বিগ্ন চীন ও রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে পরবর্তী সময়ে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেননি তিনি।

ইরানও জানিয়েছে, নতুন করে হামলা হলে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এ পরিস্থিতিতে চীন ও রাশিয়া নতুন করে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

সোমবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে বৈঠকে সব পক্ষকে অস্ত্রের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানান। অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। শুক্রবার পারস্য উপসাগরে কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে বলে জানিয়েছে জাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নাকিলাত। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও দুই পক্ষের শর্তের ব্যবধান এখনো বড়। ফলে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও নতুন করে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।

সূত্র: রয়টার্স।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!