তেলের দাম বাড়লেও বদলায়নি স্বর্ণের দাম
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও স্বর্ণের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে—এমন প্রত্যাশায় মূল্যবান ধাতুটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে। ফলে স্বর্ণের দামও স্থির রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টার দিকে স্পট স্বর্ণের দাম ছিল প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৪ দশমিক ২৯ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারসের দামও প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ৪ হাজার ৩৮১ দশমিক ৮০ ডলারে অবস্থান করছিল।
.png)
সাধারণত মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বেশি থাকলে সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়—এমন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে। এতে স্বর্ণের মতো আয়হীন সম্পদের আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বড় কোনো অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা কম থাকায় ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে আগামী ২৭–২৮ অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার নিয়ে ফেড কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়ে বাজারে আগ্রহ রয়েছে।
রয়টার্সকে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোনের গবেষণা প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়তে পারে। এতে সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়ে স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ নীতিগত সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে নির্ধারণ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি এখনো কিছুটা উঁচু অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বর ফিউচার ১ দশমিক ১৪ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪৮ ডলারে এবং ডব্লিউটিআইয়ের অক্টোবর চুক্তি ৮৭ সেন্ট বেড়ে ৯৬ দশমিক ৬৫ ডলারে উঠেছে।
তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশাকেও প্রভাবিত করতে পারে। আর সেই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কতটা ফিরে আসে, সেটিই এখন নজরে রয়েছে।