ঢাকা,  শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বেড়েছে পকেটমার ও ছিনতাই

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বেড়েছে পকেটমার ও ছিনতাই
আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের পূর্বাঞ্চল রেলপথের দ্বিতীয় বৃহত্তর ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে জংশন আখাউড়া। এ জংশন রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা তেমন বাড়েনি। এ রেলওয়ে জংশন স্টেশনে পকেটমারও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে চলেছে। নানা কৌশলে সংঘবদ্ধ চক্ররা যাত্রীদের কাছ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। দিন দিন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রেন যাত্রীসহ সাধারণলোকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্টেশন সূত্রে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ঢাকা-চট্রগ্রাম-সিলেট, নোয়াখালী ও ময়মনসিংহ রেলপথে চলাচলকারী ২৪ টি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি রয়েছে। সেই সাথে রয়েছে মেইল ও লোকাল ট্রেনের যাত্রাবিরতি। প্রতিদিন ওইসব রেলপথে কয়েক হাজার যাত্রী আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেন দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে তারা ভ্রমণ করছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধরা এসব অপরাধমূলক কাজ করছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন স্টেশনে আসার পর তাড়াহুড়ো করে ওঠানামা করার সময় এবং ভিড়ের মধ্যে পকেট থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস তারা নিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় রেললাইন নিয়ে যাওয়ার সময় সংঘবদ্ধরা গতিরোধ করে টাকাসহ মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে অপরিচিত যাত্রীদের পাশাপাশি নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের সঙ্গে থাকা স্বজনদের লক্ষ্য করে অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভিড়ের মধ্যে কেউ বুঝে ওঠার আগেই অপরাধীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়ায় অনেক ক্ষেত্রে তাদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

Advertisement

একাধিক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, এ জংশন স্টেশনে নিরাপত্তা বাহিনী, রেলওয়ে পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার লোকজন থাকলেও তারা নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন। ট্রেন আসার আগ মুহূর্তে নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজনকে দেখা যায় তারা টিকিট কাউন্টারের সামনে অবস্থান করতে। সেখান থেকে যাত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে ট্রেনে উঠানো নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে।

তারা আরো জানায়, স্টেশনের প্রবেশপথ, প্ল্যাটফর্ম, টিকিট কাউন্টার ও ট্রেনে ওঠানামার স্থানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি জোরদার করার দাবি জানান।

ট্রেনযাত্রী বাহার মিয়া জানান, ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম মেইলে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আখাউড়ায় এসে পৌঁছান। ট্রেন থেকে নেমে নিজ বাড়ি শান্তিনগর যেতে রেললাইন দিয়ে হেঁটে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অফিস সংলগ্ন কাটাগাছ এলাকায় এলে ৪-৫ জন লোক আমার গতিরোধ করে। এরপর তারা দেশীয় অস্ত্র ধরে আমার কাছ থেকে নগদ দুই হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ট্রেনযাত্রী আকরাম হোসেন বলেন, রাতে ঢাকা যেতে আখাউড়া স্টেশনে আসা হয়। এসে দেখি মেইল ট্রেন দাঁড়ানো আছে। ট্রেনের উঠার সময় কয়েকজন যুবক এক সাথে ঠেলাঠেলি করে ওঠে। এর কিছুক্ষণ পর দেখি প্যান্টের পকেটে মোবাইল ফোন নেই।  

মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, রাতে ঢাকায় থেকে আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে নামা হয়। রাত গভীর হওয়ায় প্ল্যাটফর্মে বসে থাকি। ফজরের আজানের পর রেললাইন দিয়ে হেঁটে রেলওয়ে পূর্ব কলোনি এলাকায় পৌঁছলে কয়েক লোক দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে আমার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারধর করে। পরে তারা আমার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
আফজাল হোসেন বলেন, ট্রেন আসতে দেরি হওয়ায় স্টেশন প্ল্যাটফর্মে বসে মোবাইল ফোন দেখছি। হঠাৎ এক যুবক এসে কোনো কিছু বোঝার আগেই ফোন নিয়ে দৌড় দেয়। তার পিছনে দৌড় দিলে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
গৃহিণী মনোয়ারা বেগম বলেন, মহানগর ট্রেনে উঠার সময় বেশ কয়েকজন নারী আমার সাথে ট্রেনে ওঠে। ট্রেনে প্রচুর ভিড় ছিল। ট্রেন ছাড়ার পর হঠাৎ দেখি আমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন নেই। যে নারীরা আমার সাথে ঠেলে ট্রেনে উঠেছিল তাদের দেখা যাচ্ছে না।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, স্টেশন এলাকায় অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। এখানে অপরাধে জড়িত কাউকে পাওয়া গেলে তাদের দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। যেকোনো মূল্যে অপরাধ নির্মূল করা হবে।  

ডেইলি-বাংলাদেশ//জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!