ঢাকা,  শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

কিস্তির টাকা দিতে না পারায় তরুণের রক্ত নিয়ে ঋণ গ্রহনের অভিযোগ

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কিস্তির টাকা দিতে না পারায় তরুণের রক্ত নিয়ে ঋণ গ্রহনের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

কিস্তিতে নতুন মোবাইল ফোন কিনেছিলেন ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউয়ের এক তরুণ। মাসে ২ হাজার ৭৯৯ রুপি করে কিস্তি দেওয়ার কথা থাকলেও প্রথম কিস্তিই পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। অভিযোগ, এরপর বকেয়া টাকা আদায়ের নামে তাকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয় এবং জোর করে রক্ত নেওয়া হয়।

ঘটনাটি সামনে আসার পর বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ওই ফাইন্যান্স কোম্পানির দুই রিকভারি এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে লখনউ পুলিশ। এ ঘটনায় আরও এক অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। তার সন্ধান দিতে ২৫ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, লখনউয়ের শেষ প্রান্তের রাজারামখেরা গ্রামের বাসিন্দা নেহাল স্থানীয় একটি দোকান থেকে ২১ হাজার ৫০০ রুপিতে মোবাইল ফোনটি কেনেন। ইএমআইয়ের মাধ্যমে কেনা ফোনটির জন্য এক বছর ধরে প্রতি মাসে ২ হাজার ৭৯৯ রুপি করে কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নেহালের কোনো চাকরি বা নিয়মিত আয়ের উৎস ছিল না। এরপরও দোকানদার ও সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি তাকে ফোন কেনার জন্য ঋণ দেয়। ফলে প্রথম কিস্তিই পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। অভিযোগ, এরপর থেকেই কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য রিকভারি এজেন্টরা তার ওপর চাপ দিতে থাকেন।

গত ৮ সেপ্টেম্বর শুভম ও অনিকেত নামে দুই রিকভারি এজেন্ট নেহালের বাড়িতে যান। অভিযোগ, সেখান থেকে তারা জোর করে নেহালকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে রক্তদান করানো হয়। সেই রক্ত বিক্রি করে কিস্তির টাকা আদায় করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এরপর নেহালকে শুভমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চারদিন আটকে রেখে তাকে পরিচারকের কাজ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। তাকে ছেড়ে দেওয়ার আগে নেহালের দাদা রাজকুমারের কাছ থেকেও এক মাসের কিস্তির টাকা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লখনউ সাউথের ডিএসপি মহম্মদ মুস্তাক জানান, অভিযুক্তরা নেহাল ও তার মাকে নিয়মিত হেনস্থা করছিলেন। পরে নেহালের মা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে রিকভারি এজেন্টরা জোর করে তুলে নিয়ে গেছেন।

এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে। কল ডিটেইলসের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে শুভম ও অনিকেতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ ঘটনায় আরও একজন অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি ও ব্লাড ব্যাংকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনায় আর কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!