ঢাকা,  শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মনপুরায় শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:৪৭, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মনপুরায় শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
শিক্ষক আব্দুজ জাহের। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভোলার মনপুরা উপজেলায় মসজিদের উন্নয়ন কাজের হিসাব নিয়ে কথা বলাকে কেন্দ্র করে আব্দুজ জাহের নামে এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক উপজেলার দক্ষিণ রহমানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক।

এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের পচাঁ কোড়ালিয়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, জুমার নামাজের বয়ান শেষে মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম উন্নয়ন কাজের হিসাব দিচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন কাজের তুলনায় শ্রমিক ও খরচ বেশি হয়েছে বলে প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ও শিক্ষক আব্দুজ জাহের মাস্টার বিল্লালকে দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করার অনুরোধ করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জাহের মাস্টারকে অপমানজনক কথা বলা হলে তার ছেলে সুমন ও নূর হোসেন প্রতিবাদ করেন।

Advertisement

অভিযোগ রয়েছে, এরপর বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঞ্জাত আলী রাড়ী, বাকের রাড়ী, মো. সালাউদ্দিন সরদার ও সিরাজ সরদারসহ কয়েকজন মিলে জাহের মাস্টার ও তার ছেলের ওপর মব সৃষ্টি করে অতর্কিত হামলা  চালান। এতে জাহের  মাস্টার গুরুতর আহত হন। হামলার সময় তার পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলা হয়।

শিক্ষক আব্দুজ জাহের বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। এই ঘরের উন্নয়নে শরিক হওয়া সবার দায়িত্ব। আমার ছেলে কোনো পারিশ্রমিক না নিয়ে দুই দিন মসজিদের কাজে শ্রম দিয়েছে। মসজিদের খরচ নিয়ে বিল্লাল প্রশ্ন তুললে আমি শুধু বলেছি, তুমি দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করলেই তো হতো। কেবল এ কথার কারণেই আমার এবং আমার ছেলেদের ওপর মব সৃষ্টি করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। এক পর্যায়ে জুমার নামাজ শেষ না করেই মসজিদ  থেকে বের হয়ে আসতে হয়। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম জানান, আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জাহের মাস্টারের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে গেছে। আমরা এ ঘটনায় লজ্জিত ও অনুতপ্ত। জাহের মাস্টার আমাদের মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মনপুরা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোয়ারা বেগম বলেন, একজন শিক্ষকের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। তাদের ওপর এ ধরনের হামলা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে । ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব জানান, মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!