ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
সরকারি হিসাবে শনাক্ত দুজন

ভৈরবে আটজনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:২২, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভৈরবে আটজনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আটজনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের সবাই পুরুষ এবং বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি শনাক্তকরণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ জেলায় গত ছয় বছর আট মাসে মোট ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে।

Advertisement

ছয় বছরে শনাক্ত ২৫ জন

কিশোরগঞ্জে বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির দুটি কার্যালয় রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে সংস্থাটি জেলায় কাজ করছে। জেলার ১৩ উপজেলার মধ্যে ছয়টি উপজেলা নিয়ে ভৈরব কার্যালয় এবং সাতটি উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ কার্যালয় কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সালের আগপর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলায় কারও শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়নি। এরপর গত ছয় বছর আট মাসে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়। নমুনা দেওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই যানবাহনের চালক, হকার ও নেশায় আসক্ত ব্যক্তি।

এই ২৫ জনের মধ্যে ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন উপজেলাগুলোর ২২ জন এবং কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন উপজেলাগুলোর তিনজন রয়েছেন। চলতি বছর শনাক্ত হওয়া আটজনের মধ্যে ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকায় পাঁচজন এবং কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকায় তিনজন রয়েছেন। তাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির ভৈরব কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ২৫ জনের মধ্যে দুজন চিকিৎসার বাইরে চলে গেছেন। পরে জানা গেছে তারা প্রবাসে চলে গেছেন। অন্যরা অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) নিচ্ছেন। এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এ চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্ত আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর বলেন, বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির ওই প্রতিবেদনে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। প্রতিবেদন থেকেই তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার এইচআইভি শনাক্তের তথ্য জানতে পারেন। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবনযাপন করার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলায় এইচআইভি শনাক্তের জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি।

দেশে এক বছরে সংক্রমিত ১,৮৯১

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন। একই সময়ে এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২১৯ জন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কিশোরগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!