ঢাকা,  শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

আফগানিস্তানে অভিযান চালালে কঠোর জবাব: তালেবান

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আফগানিস্তানে অভিযান চালালে কঠোর জবাব: তালেবান
ছবি: রয়টার্স

আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তান কোনো সামরিক অভিযান চালালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার আফগানিস্তানের রয়েছে।

আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

Advertisement

এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী যোদ্ধা সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ এবং পাকিস্তানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তান যদি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদকে আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালানোর যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে আফগানিস্তানেরও আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানের ভেতরে কোনো সামরিক অভিযান হলে সেটিকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে কাবুল থেকেও শক্ত প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।

এর আগে আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন। তার দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে যোদ্ধা নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তাদের অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি এসব যোদ্ধা পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে পাকিস্তানি ওই কর্মকর্তার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মুজাহিদ। তিনি বলেন, আফগান ভূখণ্ড থেকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেয় না তালেবান সরকার।

অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে তালেবান সরকার সমর্থন বা সহযোগিতা করে—এমন অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান পাকিস্তানকেই করতে হবে। তার দাবি, টিটিপি ও বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে পাকিস্তানে যে অস্থিরতা রয়েছে, তার সূত্রপাত তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার আগেই।

তালেবান ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই বেড়েছে।

পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানে অবস্থানরত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশটির ভেতরে হামলা চালাচ্ছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসলামাবাদ কাবুলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।

তবে সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিলেও পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন মুজাহিদ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের উদ্বেগ দূর করতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা সম্ভব।

এ জন্য গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। সীমান্ত নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানো গেলে দুই দেশের পারস্পরিক উদ্বেগ কমানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন মুজাহিদ।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের চলমান বিরোধ কমাতে সৌদি আরবের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তালেবানের এই মুখপাত্র। তার মতে, সৌদি আরবের সঙ্গে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান—দুই দেশেরই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে দুই দেশের মতপার্থক্য কমাতে রিয়াদ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিল তালেবান। তবে ইসলামাবাদ এখনো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে অনড়। পাকিস্তানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। অন্যদিকে তালেবান সরকারের অবস্থান, আফগান ভূখণ্ড কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!