১০ কেরাতে সনদ অর্জন, বিশ্বমঞ্চে রায়হানের নতুন সাফল্য
বাংলাদেশের তরুণ হাফেজ, মাওলানা, মুফতি ও ক্বারি রায়হান মাহমুদ আজহারি পবিত্র কোরআনের ১০ কেরাতে সর্বোচ্চ সনদ অর্জন করেছেন। সম্প্রতি মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআনের কিরাত বিষয়ে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ সনদ লাভ করেন।
সাভারের রাজফুলবাড়িয়ার রাজাঘাট গ্রামের রায়হান মাহমুদ ছোটবেলা থেকেই কোরআনের প্রতি গভীর অনুরাগ নিয়ে বেড়ে ওঠেন। হিফজ, তিলাওয়াত ও কিরাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কোরআন প্রতিযোগিতায়ও তিনি সাফল্য অর্জন করেছেন।
.png)
সাভারের বড় মাদরাসায় শৈশবেই পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন রায়হান। এরপর ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইসলামী শিক্ষায় উচ্চতর পড়াশোনা করেন। মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ পরিচালিত মাদরাসাতুল মাদীনা, মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রাবিউল উলুম থেকে মুফতি কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোতে সর্বোচ্চ গ্রেড ‘মুমতাজ’ অর্জন করেন রায়হান।
কোরআন তিলাওয়াতের দক্ষতা বাড়াতে লালবাগ মা‘হাদুল কিরাত থেকে উচ্চতর তাজউইদ ও কিরাতের শিক্ষা নেন তিনি। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান মিসরে।
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞানে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন রায়হান মাহমুদ। বর্তমানে আল-আজহারের তানতা শাখার ‘উলুমুল কোরআন ও কিরাত’ বিভাগে পড়াশোনা করছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতাতেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অর্জন। মিসরের ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৫৫টি দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন তিনি।
এ ছাড়া ‘ওফাউল আজয়াল’ ও ‘সুফারাউল হিদায়া’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন রায়হান।
কোরআন হিফজ, কিরাত ও ইসলামী শিক্ষায় রায়হানের এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন তার শিক্ষক, পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোরআন, ইসলাম ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি আরও সাফল্য অর্জন করবেন—এমন আশা তাদের।