ঢাকা,  শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ স্বাস্থ্যকথা ]

খাদ্যাভাস পরিবর্তনে হৃদরোগের ঝুঁকি ৮০ ভাগ কমানো সম্ভব

পুস্টিবিদ আয়শা সিদ্দিকা
প্রকাশিত: ১১:৫০, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খাদ্যাভাস পরিবর্তনে হৃদরোগের ঝুঁকি ৮০ ভাগ কমানো সম্ভব
বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ সমস্যার জন্য প্রধানত দায়ী অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। জেনে অবাক হবেন, প্রতিবছর পুরো পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে ১৭ মিলিয়ন মানুষ হৃদরোগের কারণে মৃত্যুবরণ করে। অথচ খাদ্যাভ্যাস আর লাইফস্

আপনি জেনে অবাক হবেন, ফাস্টফুড খাওয়ার ফলে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রক্তের শিরা-উপশিরাগুলো প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। স্বাভাবিকভাবে শিথিল হওয়ার ক্ষমতা অর্ধেক কমে আসে। আবার উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস রপ্ত করলে হৃদরোগের ফলে যে ক্ষয় হয় তা সেরে ওঠে। 

যখন কেউ রক্তের শিরা-উপশিরা বন্ধ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতাসম্পন্ন খাবার বা JUNK food খাওয়া বন্ধ করে দেন তখন তাদের দেহ আরোগ্য লাভ করতে শুরু করে। এবং  যে প্লাক জমেছিল তা মিইয়ে যায়।

Advertisement

মূলত রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ পরিমাণ বেড়ে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে পারি। বিশেষ করে প্রাণিজ খাবার মাংস ও ডিমের কুসুম ইত্যাদি থেকে কোলেস্টরলের পরিমাণ বেড়ে যায়। চর্বির কারণে রক্তনালী সরু হতে থাকে এবং হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে।

জীবনের সব ধরণের অসুস্থ্যহতার কারন মানসিক চাপ ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের (খাদ্যাভ্যাস) ফলে সৃষ্টি হয়। আপনার  দৈনন্দিন স্বভাবের পরিবর্তনই আপনার সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকার নিশ্চয়তা দেয়। 

চাইলেই আপনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন আপনার রোগশোক। নিজেকে ভালো রাখছে অনায়াসে কিছু খাদ্যাভ্যাস ও কার্যক্রম আমরা এড়িয়ে চলতেই পারি। কিছু চমৎকার খাদ্যভ্যাস, কিছু পুষ্টিকর খাবার,কিছুটা সচেতনতাই আপনার জীবনটাকে সুন্দর করে তুলতে পারে।

বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ সমস্যার জন্য প্রধানত দায়ী অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। জেনে অবাক হবেন, প্রতিবছর পুরো পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে ১৭ মিলিয়ন মানুষ হৃদরোগের কারণে মৃত্যুবরণ করে। অথচ খাদ্যাভ্যাস আর লাইফস্টাইলে চেইঞ্জ এনে যে হৃদরোগ শতকরা ৮০ ভাগ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। 

প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবারের মতো ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, যেমন: যেসব খাবার ডিম বা প্রাণিজ মাংস থেকে আসে। 

হৃদরোগ যে কোনও বয়সেই হতে পারে বা হঠাৎ করে অ্যাটাক হতেই পারে। এটি ঠেকাতে আপনার দরকার বাড়তি সচেতনতা।খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনেই স্বাস্থ্যের ওপর  বেশ ভালো রকমের প্রভাব পড়ে। প্রতিদিন যে খাবার খেলে হৃদরোগ প্রতিরোধ হয়:

১. শিম এবং শুঁটিজাতীয় খাবার : প্রতিদিন তিনবার খেতে হবে।
২.  বেরি : প্রতিদিন বেশ ভালো পরিমাণেই খেতে হবে।
৩. অন্যান্য ফল : প্রতিদিন অন্তত তিনবার খেতে হবে।
৪. ক্রসীফেরাস পরিবারের সব্জী : ক্রসীফেরাস পরিবারের সব্জী বা ফুলকপি,ব্রুকলি, পাতাকপি ইত্যাদি দিনে একবার খেতে হবে। উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।  
৫. সবুজ সবজি : প্রতিদিন দুইবার খেতে হবে।
৬. অন্যান্য সবজি : প্রতিদিন দুইবার খেতে হবে। বিটরুটের মতো সবজি নাইট্রেটের বড় উৎস। যা রক্তচাপ কমায় এবং রক্তপ্রবাহ বাড়ায়।
৭. ফ্ল্যাক্সসীড/তিসি : এক টেবিল চা চামচ। রক্তচাপের রোগীরা ছয় মাস ধরে ফ্ল্যাক্সসীড খাওয়ার পর তাদের রক্তচাপ ব্যাপকভাবে কমে আসতে দেখা গেছে। সালাদ বা স্যুপের সঙ্গেও খাওয়া যায় ফ্ল্যাক্স সীড।
৮. বাদাম এবং বীজ : প্রতদিন অন্তত একমুঠো খেতে হবে।
৯. ভেষজ এবং মশলা : এক চা চামচের চারভাগের একভাগ খেলেই চলবে।
১০. পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার : প্রতিদিন অন্তত তিনবার খেতে হবে। যারা বেশি বেশি পূর্ণশস্যজাতীয় খাবার খান তারা অনেকদিন পর্যন্ত বাঁচেন। কেননা এইজাতীয় খাবার হৃদরোগ, টাইপ টু ডায়াবেটিস, স্থুলতা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
১১. শরীরচর্চা : প্রতিদিন অন্তত ৯০মিনিট করতে হবে। আপনি কী খাবার খাচ্ছেন তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ শরীরচর্চা করেছেন কিনা। শুনে হয়তো অদ্ভুত লাগতে পারে কিন্তু সত্যি হলো পুষ্টি এবং শরীরচর্চা হাত ধরাধরি করে চলে। শরীরচর্চা করলে পুষ্টি উপাদানগুলো আরো বেশি কার্যকর হয়। 

লেখক : পুস্টিবিদ আয়শা সিদ্দিকা, কনসালট্যান্ট ডায়েটিশিয়ান, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ঢাকা
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কনসালট্যান্ট, ইজি ডায়েট বিডি, [email protected]
সিরিয়ালের জন্য : 📍 ধানমন্ডি: 01758930932, 📍 মিরপুর: 01849 333354, 📍 ঢাকার বাইরে: 01833 006099


 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!