ঢাকা,  শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

গণতান্ত্রিক সমাজে সমালোচনা গ্রহণ করতে হবে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গণতান্ত্রিক সমাজে সমালোচনা গ্রহণ করতে হবে: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘জামায়াতে-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিক্স’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সম্মানিত প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

Advertisement

আইনমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রতিটি বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া জরুরি নয়। একইভাবে কোনো সমালোচনা পছন্দ না হলেই তা প্রত্যাখ্যান করাও সঠিক নয়। অন্যের মতামত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বইটি শুধু সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নয় উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এতে একজন মানুষের জীবনদর্শন, চিন্তা, চেতনা এবং সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে। বইটির বিভিন্ন অংশে আবদুর রাজ্জাকের চিন্তা ও দর্শন উঠে এসেছে।

বইটিতে আলোচিত আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ওপর থেকে কোনো ইসলামিক শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং পরিচালনা করাই ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ—এমন ধারণা বইটিতে উঠে এসেছে।

নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে সমাজকে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে।

বইটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আবদুর রাজ্জাকের অবস্থান এবং জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তার অবস্থান আরও আগে স্পষ্টভাবে সামনে এলে এ নিয়ে অনেক প্রশ্নের অবসান হতে পারত।

আবদুর রাজ্জাকের সাংগঠনিক ভূমিকা সম্পর্কে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তার কর্ম, চিন্তা, দর্শন ও আদর্শের কারণে নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছিলেন। সমাজ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তার প্রতি যে শ্রদ্ধা ছিল, তা সাংগঠনিক পদমর্যাদার চেয়েও বড় ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আবদুর রাজ্জাক মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারণা চালাতে উৎসাহ দিতেন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে মানবাধিকারের বিষয়কে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার একটি মাধ্যম হিসেবে তিনি বিবেচনা করতেন।

আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত স্মৃতিচারণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, লন্ডনে গেলে কখনো তার সঙ্গে দেখা করে চা পান করেছেন, আবার কখনো টেলিফোনে কথা বলেছেন। জীবনের শেষ দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের মাটিতে দাফন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বইটির গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বইটি পড়া উচিত।

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্স অ্যান্ড গভর্নমেন্টের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রিয়াজ, ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক রাইট টু ফ্রিডমের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং দ্য ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর ও সাবেক মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!