ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

তারেক রহমানকে দেওয়া জোড়া আমন্ত্রণ নিয়ে যা জানালো ভারত

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:৫০, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তারেক রহমানকে দেওয়া জোড়া আমন্ত্রণ নিয়ে যা জানালো ভারত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয় বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে একটি ছিল দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য। অন্যটি ছিল বঙ্গোপসাগরীয় বহু-খাতভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের (বিমসটেক) সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না, এ নিয়ে সম্প্রতি তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার প্রেক্ষাপটে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণগুলোর ধরন ব্যাখ্যা করা হয়।

Advertisement

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরবর্তীতে তিনি বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও আমন্ত্রিত হন। ফলে তিনি দুটি পৃথক আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন; একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের এবং অন্যটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের একটি ব্রিফিং অনুযায়ী, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। গত ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এককভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই বক্তব্যের পরই নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছিলেন যে, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেক প্রধান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। 

তিনি বলেন, আমরা কীভাবে যাব? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আপনাদের কে বলেছে যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? মূলত বিমসটেক চেয়ারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

তবে রণধীর জয়সওয়ালের মন্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করা হয় যে, দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণটি এখনও বহাল রয়েছে। ভারত গত ফেব্রুয়ারি মাসেই তাকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারত তাদের লোকসভার স্পিকার ওম প্রকাশ বিড়লাকে ঢাকায় পাঠায়।

স্পিকার বিড়লা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি অভিনন্দন বার্তা বহন করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি স্ত্রী ও কন্যাসহ ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, প্রত্যর্পণের অনুরোধ এবং তিস্তাসহ অমীমাংসিত পানি বণ্টন ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে এই আমন্ত্রণের বিষয়টি সামনে এলো। একই সঙ্গে ঢাকা বর্তমানে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নিচ্ছে।  সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!