ঢাকা,  শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চুরির দায়ে খুলনায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:০৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চুরির দায়ে খুলনায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
নিহত আজমল। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খানজাহান আলী হল (খাজা হল) সংলগ্ন একটি বাড়িতে আজমল (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

গুরুতর আহত অবস্থায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। নিহত আজমল হরিণটানা এলাকার কুতুবের ছেলে।

Advertisement

হাসপাতালের কর্তব্যরত ওয়ার্ডবয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজমলকে হাসপাতালে আনার সময় সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা জানান, চুরির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য ছিল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে চুরি করতে গিয়ে আটকের ভয়ে লাফ দিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।

হাসপাতালে নেওয়ার পর আজমলকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করা হয়। প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর কথা জানার পর হাসপাতালে নিয়ে আসা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে আজমলের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে হাত ও পায়ে বিভিন্ন দাগ ছিল। এছাড়া তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। এসব আলামতকে ঘিরে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়রা কয়েজন বাড়ির মালিক জানান, রাত সাড়ে বারোটা একটার দিকে পাশের একটা বিল্ডিং থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দে বাইরে এসে দেখি পাশের একটা বিল্ডিং এর চতুর্থ তলা ছাদে কাউকে পেটানো হচ্ছে। পরে তাকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আপনি হয়তো ব্যক্তি তখন পানি চায়, এসময় তাকে পানি দেয়া হয়। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নির্যাতনকারীরা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি সে মারা গেছে। নিহত আজমল পাশের একটা বিল্ডিংয়ে থাকতো। অভিযুক্তরা তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল বলে শুনেছি।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন (ওসি) জানান, ঘটনার বিষয় আমরা জানতে পেরেছি। নিহত আজমলের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার পরিবার থানায় এসে অভিযোগ করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ার বাইরে। খাজা হলের গেটের বাইরে একটি বাড়িতে। যে বাড়িতে ছাত্রাবাস হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। যেখানে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কিছু শিক্ষার্থী ভাড়া থাকেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/খুলনা
ট্যাগ: খুলনা হত্যা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!