ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপেও জনসেবা অব্যাহত রাখার চেষ্টা

পাকুন্দিয়ায় চার দপ্তরের চাপ একা সামলাচ্ছেন ইউএনও রূপম দাস

রায়হান জামান
প্রকাশিত: ০২:০৫, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকুন্দিয়ায় চার দপ্তরের চাপ একা সামলাচ্ছেন ইউএনও রূপম দাস
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় একই সঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস।

নিয়মিত উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রূপম দাস ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বদলি হয়ে গেলে ওই পদের অতিরিক্ত দায়িত্বও ইউএনওর ওপর ন্যস্ত হয়। এর আগে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়রের পদ শূন্য হলে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বও তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়।

একসঙ্গে চারটি দপ্তরের দায়িত্ব সামলানো প্রশাসনিকভাবে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ছাড়াও ভূমি অফিসের নথি নিষ্পত্তি, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কাজ, পৌরসভার নাগরিক সেবা প্রদান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে সার্বক্ষণিক অংশ নিতে হচ্ছে তাঁকে।

প্রতিদিন নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ শেষ করেও গভীর রাত পর্যন্ত তাঁকে ফাইল সামলাতে হয়। অতিরিক্ত এ কাজের চাপ নিয়ে ইউএনও রূপম দাস জানান, নিয়মিত কাজ শেষে বাংলো অফিসে রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। এর সঙ্গে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন বৈঠক, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সরকারি কর্মসূচি তো রয়েছেই। চার দপ্তরের দায়িত্ব পালন অত্যন্ত কঠিন হলেও জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমি বদ্ধপরিকর।" তিনি আরও জানান, নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন হলে কাজের এ চাপ অনেকটাই লাঘব হতো। প্রশাসনিক এই জটিলতার মাঝেও সেবা প্রত্যাশীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।

উপজেলায় সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, ইউএনও অফিসে এসে দ্রুত পরামর্শ ও সেবা পেয়েছি। তবে শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সাধারণ মানুষের জন্য সেবা নেওয়া আরও সহজ হতো।

সাংবাদিক হারিছ আহমেদের মতে, কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধির অভাবে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিষয়টিকে কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতার উদাহরণ হিসেবে না দেখে বরং প্রশাসনিক কাঠামোর একটি বাস্তব সংকট হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

স্থানীয়রা বলছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদসহ অন্যান্য শূন্য পদগুলোতে দ্রুত পদায়ন নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক সেবা প্রদানের গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কিশোরগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!