চীনে উইঘুরদের প্রতি হংকংয়ের সংহতি
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে নির্যাতিত উইঘুর মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে হংকংয়ের বিক্ষোভকারীরা।
রোববার বিশাল এক শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে তারা নিপীড়িত মুসলিম সংখ্যালঘুদের অবস্থা বোঝানোর জন্য দেশটির জনগণের পক্ষে বেইজিংকে প্রবুদ্ধ করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
তবে কিছু প্রতিবাদকারী আশেপাশের সরকারী ভবনের একটি চীনা পতাকা সরিয়ে দেয়ার পরে দাঙ্গা পুলিশ নেমে আসলে সমাবেশটি ভেঙে যায়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ এ বিক্ষোভে এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পেপার স্প্রে (মরিচের গুঁড়া-র স্প্রে) নিক্ষেপ করে পুলিশ।
চীনে প্রায় দেড় কোটি উইঘুর মুসলমানের বাস। জিনজিয়াংয় প্রদেশে অভ্যন্তরীণ শিবিরে আনুমানিক ১০ লাখ উইঘুর এবং অন্যান্য বেশিরভাগ মুসলিম জাতিগত সংখ্যালঘুদের বন্দী করে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখোমুখি হয়েছে চীন।
জিনজিয়াং প্রদেশটি তিব্বতের মতো স্বশাসিত একটি অঞ্চল। বিদেশি মিডিয়ার সেখানে প্রবেশের ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সূত্রে খবর আসছে, সেখানে বসবাসরত উইঘুরসহ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ওপর অনেক অত্যাচার চালিয়ে আসছে বেইজিং।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও অ্যাক্টিভিস্টরা দীর্ঘদিন থেকেই বলে আসছেন, জিনজিয়াং-এর বিভিন্ন বন্দিশিবিরে অন্তত ১০ লাখ মুসলিমকে আটক করে রেখেছে চীন। তবে উইঘুর টাইমসের মতে, এসব শিবিরে প্রকৃত বন্দির সংখ্যা ৩০ লাখ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোও জাতিসংঘের কাছে এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে চীন বরাবরই মুসলিমদের গণগ্রেফতারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
রোববার বিকেলে উইঘুরদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন হংকং-এর সহস্রাধিক বাসিন্দা। তরুণদের পাশাপাশি বয়স্করাও এতে যোগ দেন। অনেকে উইঘুরদের পতাকা উত্তোলন করেন। অনেকের হাতে দেখা যায় চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে এ সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়নের বিরুদ্ধে নানা পোস্টার। ফ্রি উইঘুর, ফ্রি হংকং, চীনের ভুয়া স্বায়ত্তশাসনের পরিণাম গণহত্যা ইত্যাদি লেখা সংবলিত পোস্টার প্রদর্শন করেন বহু বিক্ষোভকারী।
আন্দোলনকারীদের অনেকেই মুখোশের আড়ালে মুখ ঢেকে এ বিক্ষোভে অংশ নেন। মূলত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণেই মাস্ক পরতে হয় তাদের।

চীনে উইঘুর নির্যাতনের বিরুদ্ধে আর্সেনাল সুপারস্টার মেসুত ওজিল-এর আলোচিত টুইটের পর হংকং-এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। ওই টুইটে তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মানির এ তারকা ফুটবলার বলেন, পূর্ব তুর্কিস্তানে (জিনজিয়াং-এর আরেক নাম) পবিত্র কোরআন পোড়ানো হচ্ছে, মসজিদগুলো তালাবদ্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, মাদরাসা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।
যদিও জিনজিয়াং প্রদেশে এ ধরনের গোপন বন্দিশিবিরের কথা বেইজিং বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে। চীনের দাবি, এগুলো আসলে কারিগরি প্রশিক্ষণ শিবির এবং মুসলিমরা স্বেচ্ছায় এখানে প্রশিক্ষণ নিতে গেছে। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিআইজে যেসব ফাঁস হওয়া গোপন দলিলপত্র হাতে পেয়েছে, তাতে উঠে এসেছে কীভাবে এই উইঘুর মুসলিমদের বন্দি করে মগজধোলাই এবং শাস্তি দেয়া হচ্ছে।
বিশের দশকের শেষের প্রতিবাদী একজন সরকারী কর্মচারী এএফপিকে পুলিশ প্রবেশের আগে বলেছিলেন, চীন সরকার নিয়ন্ত্রণের ছদ্মবেশী। তারা দ্বিমত পোষণ করতে পারে না বলে তারা মতামত জানাতে পারে না।