ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ঝাড়ফুঁক দিয়ে কিশোরীর সঙ্গে চলছিল দৈহিক সম্পর্ক

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৩২, ৩ নভেম্বর ২০২৬
ঝাড়ফুঁক দিয়ে কিশোরীর সঙ্গে চলছিল দৈহিক সম্পর্ক
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁক দিয়ে চিকিৎসার নামে অসুস্থ এক কিশোরীর সঙ্গে প্রতারণা, বিয়ের প্রলোভনে দৈহিক মেলামেশায় বাধ্য করা এবং অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে তাইজুল ইসলাম মূসা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরী ও তার মাকে হয়রানি এবং ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও রয়েছে। সর্বশেষ, কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ে না করার কথা জানিয়ে এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কিশোরীর সৎ বাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ (৩১ অক্টোবর) কলাপাড়া থানায় নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। জানা গেছে, উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউপির মনসাতলীর বাসিন্দা এই মূসা হুজুর। যিনি ঝাড়ফুঁকের কবিরাজি চিকিৎসক নামে বেশ পরিচিত। 

অভিযোগে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মূসাকে প্রধান অভিযুক্ত করে তার স্ত্রী ফাহিমা বেগমসহ সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।  

অভিযোগে জানা যায়, মেহেদী হাসান রিয়াজ কর্মস্থলের কারণে বরিশালের রূপাতলীতে বসবাস করেন। অপরদিকে তার স্ত্রী ও কিশোরী মেয়ে কলাপাড়া পৌরসভার নাচনাপাড়া মদীনাবাগ এলাকায় আব্দুল ওয়াদুদের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। তবে রিয়াজের প্রথম স্ত্রীর সন্তান ওই কিশোরী। 

জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে কিশোরী তার সৎমায়ের সঙ্গে কলাপাড়ায় বসবাস করছেন। রিয়াজও মাঝেমধ্যে ওই ভাড়া বাসায় এসে থাকতেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরী অসুস্থ থাকায় তার পরিবার বিভিন্নভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করছিল। এ সময় পূর্বপরিচিত অসিম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মূসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। 

এরই মধ্যে চিকিৎসার নামে তাইজুল নানা কৌশলে কিশোরীকে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার সঙ্গে দৈহিক মেলামেশায় লিপ্ত হন। কিন্তু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অসংখ্য দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন কবিরাজ মূসা। পরে ধারণকৃত ওই ভিডিও চিত্র ব্যবহার করে কিশোরীকে একাধিকবার দৈহিক মেলামেশায় বাধ্য করেন মূসা। একপর্যায়ে কিশোরী ও তার মা তাইজুল এবং অসিমকে বিয়ের বিষয়ে চাপ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিরা ভিডিওগুলো মোবাইল ফোন থেকে পেনড্রাইভে নিয়ে কিশোরীর বাড়িতে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরো বলা হয়, সেখানে কিশোরী ও তার মাকে বিষয়টি চেপে যেতে হুমকি প্রদান করা হয়। নাহলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে। এতে ওই পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন কিশোরীর বাবা।

এদিকে একাধিক স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, মূসা হুজুরের বিরুদ্ধে অসংখ্য নারীর সঙ্গে এমন কর্মকান্ডের ঘটনা রয়েছে। তাদের দাবি, হুজুর মূসা তদবির দেওয়ার সময় কোনো নারীর দিকে তাকালে তাকে বস করে ফেলেন। এবং পরবর্তীতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন।তবে তার এই ঝাড়ফুঁক চিকিৎসা দেওয়ার আড়ালে তিনি ভয়ংকর নারীলিপ্সুক বলেও অভিযোগ অনেক মানুষের। 

এ বিষয়ে কবিরাজ মূসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে সামনে এসে যোগাযোগ করবেন বলে ফোন কেটে দেন।

তবে কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগের বিষয় নিশ্চিত করে জানান, ওই হুজুরের বিরুদ্ধে তার তৃতীয় স্ত্রীরও দায়ের করা একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া কিশোরীর মায়ের সঙ্গেও কিছু আপত্তিকর দৃশ্য আমাদের হাতে এসেছে। আমরা সেইগুলোও যাছাই বাছাই করছি যে পুরুষ লোকটি মূসা কিনা। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কলাপাড়া/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!