ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে স্যামসাং

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৪, ৩ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে স্যামসাং
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে সরকারি-বেসরকারি খাতের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং বেসরকারি খাতের সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছে কোরীয় কোম্পানিগুলো।

কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বড় পরিসরে বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে স্যামসাং।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং ইআরডি ও ইনভেস্ট বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তাবিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়িক চেম্বারের প্রতিনিধিরা যুক্ত থাকবেন। গ্রুপটি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার, বিনিয়োগের সুযোগ, ব্যবসা সহজীকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উপায় চিহ্নিত করবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সিইপিএ নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়ায় বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন সুযোগ রয়েছে প্রচলিত বস্ত্র ও তৈরি পোশাকনির্ভর অংশীদারত্বের গণ্ডি পেরিয়ে কোরিয়ার সঙ্গে আরও বিস্তৃত ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার।’

সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে তিনি ইলেকট্রনিকস ও সেমিকন্ডাক্টর, জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল ও সৃজনশীল শিল্পের কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া জ্বালানি, ওষুধ, মেডিকেল ডিভাইস, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, আধুনিক উৎপাদনশিল্প ও অবকাঠামো খাতেও কোরীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কেও কোরীয় প্রতিনিধিদের অবহিত করেন মন্ত্রী। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন, ইলেকট্রনিকস শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক ২৬ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনা এবং কাস্টমস ও বন্দর কার্যক্রম সহজ ও গতিশীল করা।

কৌশলগত অবকাঠামো, জ্বালানি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক বিনিয়োগ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার-টু-সরকার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব মডেলের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্ক বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের প্রতি তাঁর দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোরীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যা ও আগ্রহের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সহজ করতে কোরীয় পক্ষ একটি সমন্বিত তালিকা বাংলাদেশ সরকারের কাছে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছে কোরীয় কোম্পানিগুলো

সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

হুন্দাই গ্লোভিসের প্রেসিডেন্ট লি কিউ-বক ও প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে লজিস্টিকস, বন্দর উন্নয়ন এবং অটোমোটিভ খাত নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ পক্ষ লজিস্টিকস হাব, বন্দর, অর্থনৈতিক ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, অটোমোটিভ সাপ্লাই চেইন এবং স্মার্ট লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধানে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে হুন্দাই গ্লোভিস। সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষ একটি ওয়ার্কিং-লেভেল টিম গঠনে সম্মত হয়েছে।

হানওয়া ওশানের সঙ্গে বৈঠকে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ মেরামত ও ড্রাই-ডকিং, সামুদ্রিক অবকাঠামো এবং ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।

হানওয়া ওশান প্রথম পর্যায়ে জাহাজ মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে পরবর্তী সময়ে উচ্চমূল্য সংযোজিত জাহাজ নির্মাণ ও অন্যান্য সামুদ্রিক কার্যক্রমে সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী কারিগরি আলোচনা ও ফলোআপ সফরের মাধ্যমে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।

এদিকে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের প্রেসিডেন্ট কিম উ-জুন ও প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। বৈঠকে ইলেকট্রনিকস উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল সংযোগ এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী স্যামসাংকে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান চালুর সম্ভাবনা অনুসন্ধানের আহ্বান জানান। জবাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট কিম বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সিইপিএ-পরবর্তী সুযোগকে বাস্তব ও দৃশ্যমান অর্থনৈতিক সুফলে রূপ দিতে বাংলাদেশ কোরিয়া সরকার ও দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-কোরিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পের বহুমুখীকরণ, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও গভীর করা। এর মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!