আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মার্শাল
স্টিভ ক্লার্কের বর্তমান স্কোয়ার্ডে অন্তর্ভূক্ত থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষনা দিয়েছেন স্কটল্যান্ডের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ডেভিড মার্শাল।
৩৭ বছর বয়সী মার্শাল স্কটল্যান্ডের হয়ে ৪৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। বিশ্বকাপের বাছাইয়ের প্লে অফ ও নেশন্স লিগের তিনটি ম্যাচকে সামনে রেখে স্কটল্যান্ড দলে ডাক পাওয়া চারজন গোলরক্ষকের মধ্যে তিনিও ছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে অফে ইউক্রেনের বিপক্ষে পরাজয়ের পরপরই তিনি স্কটিশ ক্যারিয়ার শেষের সিদ্ধান্ত নেন।
স্কটিশ এফএ’তে তিনি বলেছেন, ‘ক্যারিয়ারের এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে এখন আমার কাছে সবকিছুই কঠিন মনে হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকেই আমি এ ব্যপারে চিন্তা করা শুরু করেছি। যতবারই এ ব্যাপারে ভেবেছি ততবারই মনে হয়েছে এখনই সড়ে দাঁড়ানোর সঠিক সময়।’
কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স ছেড়ে গত মাসে স্কটিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব হিবারনিয়ানের সাথে দুই বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্শাল। জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মার্শাল বলেন, ‘স্কটল্যান্ডে খেলার স্মৃতিগুলো সারাজীবন আমার মনে থাকবে। একজন তরুন গোলরক্ষক হিসেবে যে সুযোগ আমি পেয়েছিলাম তা অনেকের ভাগ্যেই হয় না।’
২০০৪ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে পরিপূর্ণ ভাবে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল সেলটিক, নরউইচ সিটি, কার্ডিফ সিটি, হাল সিটি ও উইগান অ্যাথলেটিকের এই সাবেক গোলরক্ষকের। গত গ্রীষ্মে ইউরোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পরাজয়ের ম্যাচটি ছিল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তার শেষ ম্যাচ।
চ্যাম্পিনশীপে ডার্বি কাউন্টিতে নিয়মিত দলে জায়গা হারানোর পর জানুয়ারিতে মার্শাল কিউপিআর এর সাথে ছয় মাসের চুক্তি করেছিলেন। তবে ইনজুরির কারনে মার্চেই তার ঘরোয়া মৌসুম শেষ হয়ে গিয়েছিল।
প্রধান কোচ স্টিভ ক্লার্কের অধীনে স্কটল্যান্ড বুধবার আর্মেনিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে নেশন্স লিগের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে। স্কটিশ প্রিমিয়ারশীপে মার্শাল নিজেকে দারুনভাবে প্রমান করবেন বলেই আশাবাদ জানিয়েছেন ক্লার্ক।
এ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি যখন স্কটল্যান্ডের দায়িত্ব পাই তখন মার্শালকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে নিয়ে আসা ছিল আমার অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত। এটা আমার জন্য সহজও ছিল। দ্রুতই সে নিজেকে জাতীয় দলে পুনরায় মানিয়ে নেয়।
তিনি আরো বলেন, ইউরোতে তার কারনেই আমরা বাছাইপর্ব পার করতে পেরেছিলাম। তিনজন শীর্ষ সারির গোলরক্ষক একই সময়ে জাতীয় দলে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। ক্রেইগ, ডেভিড ও এ্যালান ম্যাকগ্রেগরকে পেয়ে আমরা সত্যিই ভাগ্যবান।
ক্লার্ক যোগ করেন, এদের মধ্যে দুইজনই অবসরে গিয়েছে। কিন্তু ক্রেইগ এখনো নিজেকে যতদিন সম্ভব ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। আমি মার্শালের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানাই। যদিও আমি নিশ্চিত ক্লাব ফুটবলে এখনো তার দেবার মত অনেক কিছুই আছে।