জর্জিয়ায় প্রথম নারী গভর্নর হচ্ছেন কেইশা ল্যান্স বটমস
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির প্রথম নারী এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হতে যাচ্ছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর নির্বাচনী পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
Reuters
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আটলান্টার সাবেক মেয়র বটমস পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ও ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনকে। তার এ জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর জর্জিয়ার গভর্নরের পদে ফিরছে ডেমোক্র্যাটরা।
বটমসের আগে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর ছিলেন রিপাবলিকান ব্রায়ান কেম্প। টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর তিনি বিদায় নিচ্ছেন।
৫৬ বছর বয়সী বটমস এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনি হোয়াইট হাউসের জনসম্পৃক্ততা কার্যালয়ের পরিচালক ছিলেন।
বটমসের এ জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম প্রধান সমর্থকগোষ্ঠী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা। তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচিত পদগুলোতে এখনো তাদের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলক কম।
একই রাতে যুক্তরাষ্ট্রের অধিভুক্ত অঞ্চল ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন স্টেসি প্লাসকেট। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য বা অধিভুক্ত অঞ্চলের নেতৃত্বে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
Reuters
বটমসের জয় জর্জিয়ার রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম প্রধান সমর্থকগোষ্ঠী কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা। তাদের সমর্থনে একসময়ের শক্তিশালী রিপাবলিকান ঘাঁটি জর্জিয়া এখন জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসন স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জ্যাকসন হেলথকেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। ধনকুবের এই ব্যবসায়ী নিজেকে রাজনীতির বাইরের মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি কর কমানো, জননিরাপত্তা বাড়ানো এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
বটমসের জয়ের আট বছর আগে ডেমোক্র্যাট নেতা স্টেসি অ্যাব্রামস যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় রাজনৈতিক দলের হয়ে গভর্নর পদে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে ২০১৮ ও ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
অ্যাব্রামসের নির্বাচনী প্রচার বিভিন্ন প্রজন্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় জোট গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এতে দলটির পক্ষে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ে। এর ধারাবাহিকতায় জর্জিয়া থেকে ডেমোক্র্যাট পার্টির দুই প্রার্থী সিনেটর নির্বাচিত হন। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো অঙ্গরাজ্যটির নির্বাচনী ভোটও ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর পক্ষে যায়।