ভৈরবে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিতে মার্কেট, ১০ দপ্তরে চিঠি
কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিতে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। হাসপাতালের জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার না করে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পাঠানো চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ১০টি দপ্তরে।
এর আগে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিতে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর হাসপাতালের জমি রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকেরা।
সিভিল সার্জনের চিঠিতে বলা হয়েছে, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি স্বাধীনতার আগে থেকেই স্থানীয় মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিদিন এখানে বহির্বিভাগে ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। কেন্দ্রটিতে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক কর্মরত রয়েছেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভৈরব বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রায় ১৫ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা। এখানে নিয়মিত পৌরসভার সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) পরিচালিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের উদ্যোগে সেখানে আধুনিক ২০ শয্যার ডায়াবেটিস হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
সিভিল সার্জনের অভিযোগ, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে অচল দেখিয়ে জমিটি জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার জন্য সম্ভবত একটি রেজুলেশন পাস করা হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর হাসপাতালের পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের সদস্যরা তাতে বাধা দেন।
চিঠিতে বলা হয়, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম সচল থাকা অবস্থায় এর স্থাপনা ভেঙে ফেলার উদ্যোগ স্বাস্থ্য বিভাগ ও সাধারণ মানুষকে মর্মাহত করেছে। জমিটি এখনো বিএস রেকর্ডে স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চলছে। এ অবস্থায় জমিটি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সহযোগিতা করতে জেলা পরিষদ প্রশাসককে অনুরোধ জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারি কাদেরী স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালের পেছনের পুরোনো ভবন ভাঙার চেষ্টা এবং সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে প্রায় ১০ হাজার নতুন ইট মজুত থাকতে দেখেন সাংবাদিকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে মার্কেট নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এমনকি প্রতিটি দোকানের এক শাটার ৩৫ লাখ টাকায় বিক্রির কথাও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব বাজার মৌজার ৩৩ নম্বর খতিয়ানের ৭৫০২ নম্বর দাগে থাকা প্রায় ৩৮ দশমিক ২৮ শতাংশ জমি বিএস খতিয়ানে স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রেকর্ডভুক্ত। তবে সিএস খতিয়ানে জমিটি জেলা পরিষদের নামে রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত এ জমির ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করছে।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারি কাদেরী এর আগে জানিয়েছিলেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম সচল রেখেই অবশিষ্ট জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করা হবে। এখনো কাউকে দোকান লিজ দেওয়া হয়নি। নির্মাণকাজের প্রস্তুতির জন্য ইট আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সচল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করা যাবে না। বরং কেন্দ্রটি আধুনিকায়নের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে অচল দেখিয়ে জমিটি জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার জন্য সম্ভবত একটি রেজুলেশন পাস করা হয়েছিল। গত ৩ নভেম্বর জেলা পরিষদের লোকজন হাসপাতালের পুরোনো ভবন ভাঙা ও নতুন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের সদস্যরা তা প্রতিহত করেন। বিষয়টি জানার পর বুধবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগে সহযোগিতা চেয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।