নওগাঁয় দুই ইটভাটায় অভিযান, ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নওগাঁর পোরশায় একই এলাকায় তিনটি ইটভাটার মধ্যে দুটিতে অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকার অভিযোগ থাকা অন্য একটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়নি। অভিযান চলাকালে ওই ভাটার বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করা হলেও তিনি সেখানে যাননি বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এ ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পোরশা উপজেলায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা সুলতানার নেতৃত্বে পশ্চিম রঘুনাথপুর এলাকার মেসার্স এনএসবি ব্রিকস এবং নিতপুর এলাকার মেসার্স কেইবিসি ব্রিকসে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই ইটভাটা দুটির পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চালানোর দায়ে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। পরে ভাটা কর্তৃপক্ষকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ভাটা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়।
তবে অভিযানের আওতাভুক্ত এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত মেসার্স এমআরএসএ ব্রিকস নামে আরেকটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ভাটারও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। অভিযানের সময় বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান। ভাটাটিকে অবৈধ বলেও অবহিত করেন তাঁরা। এরপরও সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও অভিযানে প্রসিকিউটরের দায়িত্বে থাকা মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘আমরা যখন মোবাইল কোর্টের টিম হিসেবে যাই, তখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছি, ওই ইটভাটাটি অবৈধ। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেছেন সেখানে যাবেন না। সে জন্য সেখানে যাননি। কেন যাননি, তা আমার বোধগম্য নয়। সেটি তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।’
অন্যদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা সুলতানা বলেন, ‘মোবাইল কোর্টের নিয়ম হচ্ছে, যেকোনো একটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করা এবং বাকিদের সতর্ক করা। আমি জেনে যাইনি কোনটি বিএনপি নেতার, কোনটি অন্য কারও। আমাদের যেটা চোখে পড়েছে, সেখানেই মোবাইল কোর্ট করেছি।’
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, একই এলাকায় একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও একটি ইটভাটাকে কেন অভিযানের বাইরে রাখা হলো? পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ভাটাটির বিষয়ে অবহিত করার পরও সেখানে অভিযান না চালানোর কারণ কী? বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযানে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হোসাইন। অভিযানে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল।