ঢাকা,  রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ঝালকাঠিতে সামাজিক বনবিভাগের ৯টুকরো শিশু গাছ উদ্ধার

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি ॥
প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ১ নভেম্বর ২০২৬
ঝালকাঠিতে সামাজিক বনবিভাগের ৯টুকরো শিশু গাছ উদ্ধার
ঝালকাঠি সদর উপজেলার দারখি এলাকা থেকে সামাজিক বনবিভাগের পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারকৃত ৯টুকরো শিশু গাছ।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার দারখি এলাকা থেকে সামাজিক বনবিভাগের পরিত্যক্ত অবস্থায় ৯টুকরো শিশু গাছ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রবিবার বিকেলে জেলা বনকর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার, বনকর্মী মহিবুর রহমানকে সাথে নিয়ে গাছ উদ্ধার করেন। সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ইদ্রিছ ফরাজী গাছ কেটে সংরক্ষণের দায় স্বীকার করেছেন। 


স্থানীয়রা জানান, ঝালকাঠি জেলা বন বিভাগের আওতাধীন চামটা ও দারখী এলাকার সামাজিক বন বিভাগের গাছ একের পর এক কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। একারণে ক্রমান্বয়ে গাছ উজার হচ্ছে এবং সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। শনিবার ইদ্রিছ ফরাজী ও তার ছেলে সামাজিক বন বিভাগের গাছ কেটে ৯টি গাছের গুড়ি (গাছের টুকরো) তাদের বাড়ি সংলগ্ন আয়রণ ব্রিজের নীচে রাখে। বাকি অংশ তিনি নিজ বাড়িয়ে নিয়ে রাখে। বন বিভাগের কাছে অভিযোগ করলে কর্মকর্তা ব্রিজের নীচে থেকে ৯টুকরো গাছ সনাক্ত করে এবং ইদ্রিছ ফরাজি’র বাড়িতে গিয়ে গাছের অবশিষ্টাংশ দেখতে পায়। সন্ধ্যা হওয়ায় গাছ জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের জিম্মায় রাখে। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার ফ্যাসিবাদী একটি প্রভাবশালী চক্র সামাজিক বন বিভাগের গাছ একের পর এক কেটে আত্মসাত করেছে। তাদের ভয়ে কারো প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা, কথা বলতেও সাহস পায়নি। 


স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক বনবিভাগের গাছ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে এবং উপড়ে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। ইদ্রিছ ফরাজী সামাজিক বনবিভাগের স্থানীয় কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তাই সে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো চুরি এবং নষ্ট হবার ভয়ে নিজেই কেটে জমা করছিলেন। সোমবার সে বনবিভাগকে অবহিত করতে চাইছিলো, কিন্তু রবিবার বিকেলেই বনবিভাগের কর্মকর্তা এসে তা জব্দ করেন।


অভিযুক্ত ইদ্রিছ ফরাজী দায় স্বীকার করে বলেন, বন্যা ও বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ যাতে নষ্ট না হয় এজন্য ছেলেকে নিয়ে কেটে জমা করছিলাম। সোমবার বনবিভাগকে অবহিত করতে চাইছিলাম, কিন্তু এরপূর্বে জেলা বনকর্মকর্তা জাকিরুল হক সরকার রবিবার বিকেলে জমা করা স্থানে উপস্থিত হয়ে গাছ জব্দ করেছেন। কাটার আগে বনবিভাগের অনুমতি নেয়া হয়নি, এটা ভুল হয়েছে। সামাজিক বনবিভাগের স্থানীয় কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছি। তাই দায়িত্ব নিয়ে কেটেছিলাম, বনবিভাগের গাছ পঁচে গেলেও আর কাটবো না। 


জেলা বনকর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রবিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে সামাজিক বন বিভাগের শিশু গাছের ৯টি টুকরো একটি আয়রন ব্রিজের নীচ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী সামাজিক বনবিভাগের স্থানীয় কমিটির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য ইদ্রিছ ফরাজির গাছ কেটে সংরক্ষণের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে। সন্ধ্যা হওয়ায় গাছগুলো জব্দ করে ওই এলাকার ইউপি সদস্য ও সামাজিক বনবিভাগের সদস্য রফিকুল ইসলামের জিম্মায় রেখে আসা হয়েছে। সোমবার শ্রমিক নিয়ে গাছের টুকরোগুলো বনবিভাগে এনে রাখা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ঝালকাঠি
ট্যাগ: ঝালকাঠি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!