ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ খেলা ]

১৪ বছরে সাকিবের কিছু বিরল অর্জন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:১৩, ২৮ অক্টোবর ২০২০
১৪ বছরে সাকিবের কিছু বিরল অর্জন
সাকিব আল হাসান (ফাইল ছবি)

জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপনের দায়ে গত বছরের ২৯ অক্টোবর সাকিব আল হাসানকে সবধরণের ক্রিকেট থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আগামীকাল শেষ হচ্ছে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ। এর আগেরদিন সাকিবের অসাধারণ কিছু অর্জনকে এক করে তুলে ধরেছেন তার একনিষ্ঠ ভক্ত রিফাত এমিল।

সেই ১৯ বছর বয়সে ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন সাকিব। হারারে থেকে শুরু করে মিরপুর, মুলতান, লর্ডস, ওল্ড ট্রাফোর্ডে ঔদ্ধত্য দেখিয়ে পার করেছেন ১৪ বসন্ত। এই সময়ে নামের পাশে যোগ করেছেন অসংখ্য অর্জন। বাইশ গজে নামার পর আবারো নতুন করে রেকর্ড গড়বেন তিনি। সাকিবের এখন পর্যন্ত সব অর্জনের কিছু তুলে ধরা হলো নিচে: 

ওয়ানডে ক্রিকেটে সাকিবসহ মাত্র ৫ জন ক্রিকেটারের ৫০০০ রান ও ২০০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। সাকিব করেছেন সবচেয়ে দ্রুত, মাত্র ১৭৮ ইনিংসে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম সময়ে ৬০০০ রান ও ২৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ সাকিবের।

ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে মাত্র চারজন অলরাউন্ডারের ৬০০০ রান, ২৫০ উইকেট ও ৫০ ক্যাচ রয়েছে, এর মধ্যে সাকিব একজন।

নয়টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে ৫ উইকেট নেওয়ার অর্জন রয়েছে সাকিবসহ মাত্র ৪ জনের। সাকিবের সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড সবচেয়ে দ্রুততম, মাত্র ৫০ টেস্টে।

টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুততম ৩০০০ রান ও ১৫০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব সাকিবের। ক্রিকেট ইতিহাসের ১৩ তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০০ রান ও ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব এবং সবচেয়ে দ্রুততম।

সাকিবসহ মাত্র তিনজন ক্রিকেটারের একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। সাকিবের এক ওয়ানডে ম্যাচে সেঞ্চুরি ও চার উইকেটও রয়েছে। একই টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রয়েছে পাঁচ উইকেট ও ৪০ এর অধিক রান।

ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০০০ রান ও ৪৫০ উইকেটের বেশি নেওয়ার কৃতিত্ব মাত্র তিনজনের। এর মধ্যে সাকিব একজন।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৫০০ রান আর ৬০ উইকেট নেওয়া একমাত্র অলরাউন্ডার সাকিব।

প্রথম বাঁহাতি বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট সাকিবের। ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০০ রান ও ৩০০ উইকেটের মাইলফলক রয়েছে সাকিবের।

ক্রিকেট ইতিহাসের অষ্টম বোলার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই পাঁচ উইকেট শিকার করেন সাকিব। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম অলরাউন্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একই ম্যাচে ৪০ এর অধিক রান ও পাঁচ উইকেট নেয় তিনি। 

প্রথম অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাঁচ উইকেট নেন সাকিব।

সাকিব প্রথম ক্রিকেটার যার যেকোনো নির্দিষ্ট ভেন্যুতে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০০ রান ও ৫০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। সাকিব প্রথম ক্রিকেটার যার কি না টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো নির্দিষ্ট ভেন্যুতে ১০০০ রান ও ৫০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। সাকিব ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক ভেন্যুতে ৪০০০ আন্তর্জাতিক রান করেন। সব রেকর্ডই হয়েছে হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে।

চতুর্থ বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাকিব।

আইপিএলে পঞ্চম স্পিনার হিসেবে ৫০ উইকেট প্রাপ্তি, দ্বাদশ ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে ৫০০ রান ও ৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে সাকিবের।

৩০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা দ্বিতীয় বাংলাদেশি সাকিব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০ উইকেট নেওয়া প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি তিনিই।

ক্রিকেট বিশ্বকাপে ২৯ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ৪৫ গড়ে ১১৪৬ রান। ২টি শতক, ১০ অর্ধশতক; সর্বোচ্চ ১২৪*। চার ১০৭, ছয় ৮টি। ৩৫ গড়ে ৩৪ উইকেট। সেরা ফিগার ৫/২৯। ফিল্ডার সাকিবের ক্যাচ ৮টি।

১১৪৬ রান করে সাকিব বিশ্বকাপ ইতিহাসের নবম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৩৪ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে ১৬তম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। বিশ্বকাপে সাকিবের চেয়ে বেশি উইকেট রয়েছে মাত্র তিনজন স্পিনারের।

ক্রিকেট বিশ্বের ১৯ তম ব্যাটসম্যান এবং প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বকাপে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব।

১০০০ রানের সঙ্গে সাকিবের রয়েছে বিশ্বকাপে ৩০ উইকেটও। অসংখ্য রথীমহারথী খেলেছেন ক্রিকেট বিশ্বকাপে। অথচ সাকিব একমাত্র ক্রিকেটার যার হাজারের বেশি রান ও ত্রিশের বেশি উইকেট রয়েছে।

বিশ্বকাপে দুটি শতক ও দুবার চার বা এর বেশি উইকেট নেওয়া একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব।

যৌথভাবে বিশ্বকাপে সর্বাধিকবার একই ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ রান ও দুইয়ের অধিক উইকেট নেওয়া ক্রিকেটার সাকিব। তিনি এই কীর্তি চারবার গড়েছেন।

সাকিব ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র অলরাউন্ডার যিনি নির্দিষ্ট এক বিশ্বকাপে ৪০০ এর বেশি রান ও ১০ এর অধিক উইকেট নিয়েছেন। পরে অবশ্য সেই রান পেরিয়ে যায় ৬০০-তে।

প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিশ্বকাপে পাঁচ উইকেট শিকার সাকিবের। দলের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা বোলিং ফিগারও তার।

দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে একই ম্যাচে ৫০ রান ও ৫ উইকেটের কীর্তি সাকিবের। তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি ও ম্যাচে পাঁচ উইকেট পান সাকিব।

সাকিব বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি বিশ্বকাপে টানা আট ইনিংসে চল্লিশোর্ধ রানের ইনিংস খেলেছেন।

সাকিবের বিশ্বকাপে পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস ১২টি। সামনে রয়েছে শুধু শচীন।

নির্দিষ্ট এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংসে শচীনের পাশে বসেন সাকিব। শচীন ২০০৩ বিশ্বকাপে ১১ ইনিংসে ৭ পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলেন, সাকিব ৮ ইনিংসে ৭টি।

নির্দিষ্ট এক ক্রিকেট বিশ্বকাপে ৬০০ এর অধিক রান করা তৃতীয় ব্যাটসম্যান সাকিব। সাকিবের আগে ম্যাথু হেইডেন, শচীন ছিলেন সেই তালিকায়। এরপরে অবশ্য নির্দিষ্ট বিশ্বকাপে ৬০০ রানের অধিক করার তালিকায় ওয়ার্নার, রোহিতের নাম যুক্ত হয়েছে।

ক্রিকেট বিশ্বকাপে সাকিব বল করেছেন ১৪৩৩টি; এরমধ্যে ডট দিয়েছেন ৬৭৯ বল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সাকিবের চেয়ে বেশি বল ডট দিয়েছে মাত্র তিনজন বোলার।

২০১৯ বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ৬০৬ রান, ৮৬.৫৭ ব্যাটিং গড়, ২টি শতক, ৫ অর্ধশতক, ৬০ চার, ২টি ছয় ও সর্বোচ্চ অপরাজিত ১২৪। বল হাতে ১১ উইকেট, ৩৬.২৭ গড়, একবার পাঁচ উইকেট, সেরা ৫/২৯। এছাড়া ফিল্ডার সাকিবের ছিল ৩ ক্যাচ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১০০০ রান ও ৫০০ উইকেট পাওয়া দ্বিতীয় ক্রিকেটার সাকিব।

সাকিবের ওয়ানডে রান ৬৩২৩, টেস্ট রান ৩৮৬২, আন্তর্জাতিক টি২০ রান ১৫৬৭। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবমিলিয়ে ১১৭৫২ রানের মালিক সাকিব।

টেস্টে সাকিবের উইকেট সংখ্যা ২১০, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। ওয়ানডে ক্রিকেটে উইকেট সংখ্যা ২৬০, বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্বিতীয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার উইকেট সংখ্যা ৯২, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ এবং বিশ্ব ক্রিকেটে তৃতীয়।

টেস্টে সাকিবের অর্ধশতক ২৪, শতক ৫ ও ক্যারিয়ার সেরা ২১৭ রানের ইনিংস। সাকিবের ওয়ানডে ক্রিকেটে অর্ধশতক ৪৭, শতক ৯টি। টি২০ ক্রিকেটে অর্ধশতক ৯টি, ক্যারিয়ার সেরা রান ৮৪।

টেস্টে সাকিব চার উইকেটে নিয়েছেন ৮ বার, পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ১৮ বার, ম্যাচে দশ উইকেট নিয়েছেন ২ বার। ওয়ানডে চার উইকেট নিয়েছেন ৮ বার, পাঁচ উইকেট ২ বার। আর টি২০ ক্রিকেটে তিনবার চার উইকেট ও একবার নিয়েছেন পাঁচ উইকেট।

টেস্টের সর্বোচ্চ ইনিংস ২১৭, ওয়ানডে অপরাজিত ১৩৪ ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৮৪।

সাকিব টেস্টে ৪৭৫ টি, ওয়ানডে ৫৭৪ ও টি২০ ক্রিকেটে ১৬৩টি চার মেরেছেন। এছাড়া ছক্কা মেরেছেন ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪২টি, টেস্টে ১৯ আর টি-টোয়েন্টিতে ৩৩টি।

সাকিব টেস্টে ৬২২৪, ওয়ানডে ক্রিকেটে ৭৬৪১, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১২৬৬ বল ব্যাটিং করেছেন। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫১৩১ বল।

সাকিব সবমিলিয়ে ১৮৫৭৬ মিনিটের বেশি ব্যাটিং করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

সাকিবের নিষিদ্ধ হওয়ার ঘোষণা কোটি ভক্তের কাছে ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। বিষয়টি কষ্ট দিয়েছিল রিফাত এমিলকেও। প্রিয় নায়কের ফেরার দিন গুণতে গিয়ে অন্যরকম এক কীর্তি গড়েন তিনি। ৩৬৫ দিনের প্রতিটা দিনই সাকিবের বিভিন্ন অর্জন নিয়ে পোস্ট করেছেন এই ভক্ত। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসেই এমন ভক্তের দেখা পাওয়া ভাগ্যের বিষয়!  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!