সাকিবের নিষেধাজ্ঞা: যেমন গেল এই এক বছর
গত বছরের ২৯ অক্টোবর সাকিব আল হাসানকে সবধরনের ক্রিকেট থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তখন থেকেই এই অলরাউন্ডারের ফেরার ক্ষণ গণনা করতে শুরু করে ভক্তরা। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই আসছে কাঙ্ক্ষিত সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, শেষ হছে সাকিবের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ।
সময়ের হিসেবে এক বছর কম সময় নয়। আইসিসি কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার কিছুদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে সময় কাটাতে যান সাকিব। প্রায় একই সময়ে সাতক্ষীরায় যৌথভাবে শুরু করেন কাঁকড়া ব্যবসা।
ক্রিকেটীয় কর্মকান্ড থেকে নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের ক্রিকেট থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন সাকিব। তবে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল খেলে সময় কাটান তিনি। ফুটবলার বাবার কারণে ফুটবলও বেশ ভালোই খেলেন এই অলরাউন্ডার। কখনো কখনো ইংল্যান্ডে উড়ে গেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইডেটের খেলা দেখতে।
মার্চে দেশে আঘাত হানে করোনার কালো থাবা। লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েন অসংখ্য মানুষ। নিম্নবিত্তরা হয়ে পড়েন অসহায়, ঠিকমতো খাবার জোটাতেই হিমশিম খান অনেকে। দেশের কঠিন সময়ে এগিয়ে আসেন সাকিব। প্রতিষ্ঠা করেন 'দ্য সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন'।
এই ফাউন্ডেশন থেকে প্রথমে বিশ্বকাপ মাতানো নিজের প্রিয় ব্যাটটি নিলামে তোলেন সাকিব। বেশ চড়া দামেই ব্যাটটি বিক্রি হয়। ব্যাট বিক্রির টাকার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তরফে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ান সাকিব। সারাদেশেই বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত।
এরই মাঝে সাকিব ও তার সহধর্মিণী উম্মে আল হাসান শিশিরের কোল আলো করে আসে দ্বিতীয় কন্যা সন্তান ইররাম হাসান। বড় মেয়ে আলাইনাকে ব্যস্ততার কারণে সময় দিতে না পারলেও ছোট মেয়েকে কোলেপিঠে করেই মানুষ করেছেন সাকিব। বলা যায় পরিবারকে পুরোদমে সময় দিতে পেরেছেন তিনি। এর পাশাপাশি একই সময়ে সারাদেশেই অসহায়দের নানাভাবে সাহায্য করেছেন এই অলরাউন্ডার।
শ্রীলংকা সফর দিয়ে সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের কথা থাকলেও সিরিজটি বাতিল হয়ে যায়। বাইশ গজে ফেরার উদ্দেশ্যে অবশ্য এর আগেই দেশে ফিরেছিলেন তিনি, বিকেএসপিতে শুরু করেছিলেন অনুশীলন। তবে সিরিজ স্থগিতের পর আবারো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন তিনি।
আগামীকাল থেকে সবধরনের ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন সাকিব। নভেম্বরে কর্পোরেট টি-টোয়েন্টি দিয়েই আবারো তাকে বাইশ গজে খেলতে দেখা যাবে। এ লক্ষ্যে আগামী ৪ নভেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে।
গত এক বছর বেশ অন্যরকমই কেটেছে সাকিবের। পরিবারকে সময় দেয়ার পাশাপাশি অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, সবার কথা ভাবা মিলিয়ে নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে এক নতুন সাকিবকে দেখেছে সবাই।