কানসাসে ৯৪ বছর পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শালকে হারিয়ে ৯৪ বছর পর অঙ্গরাজ্যটি থেকে প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে হ্যামিল্টনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করল। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কানসাসে ১৬ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর জয়কে বড় রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৭টি। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল।
৬২ বছর বয়সী হ্যামিল্টন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ইউনাইটেড মেথডিস্ট গির্জা চার্চ অব দ্য রেজারেকশনের প্রতিষ্ঠাতা যাজক। নির্বাচনী প্রচারে তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং দুই দলের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। নিজেকে ‘স্বাধীন চিন্তাধারার ডেমোক্র্যাট’ হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। একই সঙ্গে তাকে কট্টর বামপন্থী হিসেবে তুলে ধরার রিপাবলিকানদের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেন।
নির্বাচনের শেষ কয়েক সপ্তাহে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জমে ওঠে। রজার মার্শালের পক্ষে প্রচার চালাতে কানসাসে যান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
গত ১৯ অক্টোবর উইচিটা এলাকার কাছে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের জন্য একটি জ্বালানি সহায়তা কর্মসূচি চালু করবে। এ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের ৮০০ কোটি ডলার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ফসল কাটার সময় ডিজেলের বাড়তি খরচ সামলাতে এ অর্থ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
ইরান যুদ্ধের কারণে ডিজেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কানসাসের কৃষকদের সমর্থন পেতে দুই প্রার্থীই নির্বাচনী প্রচারে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন।
রাজনীতিতে আসার আগে রজার মার্শাল প্রসূতি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০২০ সালে সিনেটর হন।
তবে গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বকেয়া চিকিৎসা বিল আদায়ের জন্য তিনি ৭০০ জনের বেশি রোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন মার্শাল। সেপ্টেম্বরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওই প্রতিবেদনকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেন। তার দাবি, বকেয়া অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি প্রচলিত নিয়মই অনুসরণ করেছেন।