ঢাকা,  রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কালের সাক্ষী রাধামাধব আখড়া মন্দির

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কালের সাক্ষী রাধামাধব আখড়া মন্দির
আখাউড়ায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কালের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির। পৌর শহরের রাধানগর এলাকায় অবস্থিত পুরোনো এ মন্দিরটি। মন্দিরটির নির্মাণকালসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো সন পাওয়া না গেলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধারণা এটি প্রায় ৮০০ বছরের উপর হবে। এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালিন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা বীর বিক্রম ঈশ্বরচন্দ্র মানিক্য বাহাদুর। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে রাধামাধব আখড়া শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ বছর ধরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ ও সামাজিক কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে তাদের কাছে বিশেষ মর্যাদা বহন করে আসছে মন্দিরটি। এ মন্দিরে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, হরিনাম সংকীর্তন, পূজা-পার্বণসহ নানা আয়োজনে ভক্তদের সমাগম ঘটে।

আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরকে ঘিরে বছরের বিভিন্ন সময়ে নানা ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা অংশ নেন। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবের সময় মন্দির প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই আখড়া ধর্মীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে ভূমিকা রেখে আসছে।

Advertisement

সনাতন ধর্মাবলম্বীর একাধিক লোকজন জানায়, এই কেন্দ্রীয় রাধামাধব আখড়া মন্দিরটি প্রায় ৭৮ শতাংশ জায়গাতে অবস্থিত। এখানে রয়েছে অতি প্রাচীন দুর্গা, চন্ডি, শিব, দোল ও নাট মুর্তি।  পাশাপাশি রয়েছে অফিস কক্ষ, অতিথি শালা, প্রসাদ কক্ষ, ভোজনালয়, রন্ধন শালা, রথ ঘর, পুকুর ঘাট, ঠাকুর বাড়ি। বর্তমানে রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরটি উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। এই কেন্দ্রীয় মন্দিরের মাধ্যমে উপজেলার ২৫টি মন্দির ও মন্ডপের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরের পরিবেশ সংরক্ষণে আরও যত ও উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

বিশ্বজিৎ পাল বাবু বলেন, রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় কেন্দ্র। লোকমুখে শুনেছি আমাদের এই মন্দির বহু পুরাতন। অতি প্রাচীন মন্দিরের ভেতরে রয়েছে দুর্গা, চন্ডি, শিব,, দোল ও নাট মুর্তি। দর্শনীয় এই মন্দিরে পূজা দিয়ে ধর্মীয় তুষ্টি মেটান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পুরাতন এ মন্দিরটি আজও তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

রাধামাধব আখড়া পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলক কুমার চক্রবর্তী বলেন, শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া (মন্দির) প্রায় ৮০০ বছর পূর্বে বীরবিক্রম রাধা কিশোর মানিক্য বাহাদুর প্রতিষ্ঠা করেন। এটি একটি অতি প্রাচীন মন্দির। এই কেন্দ্রীয় মন্দিরের মাধ্যমে উপজেলার ২৫টি মন্দির ও মন্ডপের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সময়ের নানা পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে  এই মন্দিরটি।

 

ডেইলি-বাংলাদেশ//জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!