ইসলামী চিন্তাবিদ ড. তিজানি আবদুল কাদের আর নেই
সুদানের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তিজানি আবদুল কাদের হামিদ ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৫ বছর। তাঁর মৃত্যুতে ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কাতারের রাজধানী দোহায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন শনিবার দোহার মুসাইমির কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
.png)
দীর্ঘ কর্মজীবনে অধ্যাপক ড. তিজানি আবদুল কাদের সুদান, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইবনে খালদুন সেন্টার ফর হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে ইবনে খালদুন সেন্টার এক শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়।
এদিকে ড. তিজানির ইন্তেকালে ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসও শোক প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, গবেষণা, শিক্ষকতা ও লেখালেখির পাশাপাশি ইসলামী চিন্তাধারা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, কোরআনবিষয়ক গবেষণা ও সংস্কারমূলক চিন্তায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সুদানসহ মুসলিম বিশ্বের একাডেমিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে তাঁর কাজের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
তাঁর গবেষণায় দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামী চিন্তাধারা, কোরআনবিষয়ক গবেষণা ও রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের সমন্বয় দেখা যায়। মানুষের বাস্তব জীবনের সঙ্গে চিন্তার সম্পর্ক এবং কোরআনের বাণীর সঙ্গে সমকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নের যোগসূত্র নিয়েও তিনি কাজ করেছেন।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আলী মুহাম্মদ আস-সালাবি ড. তিজানির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, কয়েক দশকের কর্মজীবনে তিনি গবেষণা, শিক্ষকতা ও লেখালেখির পাশাপাশি ইসলামী চিন্তাধারা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সংস্কার, রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান এবং সুদান ও মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেছেন।
১৯৫১ সালে উত্তর কর্ডোফানের উম্মু দাম এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন ড. তিজানি আবদুল কাদের। খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতক ও ১৯৮৪ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে ১৯৮৯ সালে লন্ডনের হিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি লাভ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘উসুল আল-ফিকর আল-সিয়াসি ফি আল-কুরআন আল-মাক্কি’, ‘আল-ইসলাহ ফি আল-কুরআন’, ‘মুকাদ্দিমা ফি ফালসাফাহ আল-সিয়াসাহ’, ‘মুশকিলাতুল ফাকর’, ‘ইশকালিয়্যাতুল কুরআনিল মাক্কি ফি দিরাসাতিল মুশতাশরিকীন’ এবং ‘নিজাউল ইসলামিয়্যিন ফি আস-সুদান’। এ ছাড়া সুদানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন।