ঢাকা,  রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কলি হত্যার বিচার দাবিতে পাবনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:১৮, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কলি হত্যার বিচার দাবিতে পাবনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন
কলি ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচার এবং আসামিদের ফাঁসি দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাবনায় শিশু শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্নর দাবি উঠেছে। কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী নিহত শিশুর সহপাঠীরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা জেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও আদালত চত্বর এলাকায় প্রদক্ষিণ করে। 

এদিকে কলি হত্যা মামলার গ্রেপ্তার আসামি মোস্তফা প্রামাণিক ও ইয়াছিন আলীকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তদন্তে কলিকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

Advertisement

বিক্ষোভকারীরা বলেন, কলির মতো একটি শিশুকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

 উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে তার পরিহিত স্যান্ডেল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক।

নিখোঁজের পর কলিকে উদ্ধারের দাবিতে ১৫ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী, স্বজন ও স্কুলশিক্ষার্থীরা। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ওই মানববন্ধনে কলির হত্যাকারীরও উপস্থিত ছিল।

এর পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজের সাতদিন পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের তদন্তে প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে রাখা হয়।

আসামিদের গ্রেপ্তারের পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এর মধ্যে শুক্রবার ও শনিবার বিক্ষুব্ধ জনতা মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। লুট করে নিয়ে যায় আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পাবনা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানিয়েছেন কলি হত্যা মামলার গ্রেপ্তার আসামি মোস্তফা প্রামাণিক ও ইয়াছিন আলীকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে রোববার পাবনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/পাবনা
ট্যাগ: পাবনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!