ভৈরবে বসতঘর ভাঙচুর ও রাস্তা বন্ধের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বাঁশ, কাঠ ও টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া এবং বসতঘরের চালের টিন ও টয়লেট ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চণ্ডিবের এলাকার হাজী আব্দুর রহিম, মাহমুদুল হাসান রনি ও শফিফুল ইসলাম গংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মিন্নত আলী।
রোববার সকালে ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মিন্নত আলী ও তাঁর পরিবারের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিন্নত আলী বলেন, ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকায় তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। ওই সম্পত্তি এখনো ভাই-বোনদের মধ্যে কোনো বণ্টননামার মাধ্যমে ভাগ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে তাঁদের কাছ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে মাহমুদুল হাসান রনি জমি কিনে নেন।
.png)
মিন্নত আলীর দাবি, জমি কেনার পর থেকেই তাঁর ও তাঁর বড় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে হাজী আব্দুর রহিম, মাহমুদুল হাসান রনি ও শফিফুল ইসলাম গংয়ের বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বাঁশ, কাঠ ও টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে তিনি, তাঁর বড় ভাইসহ তিনটি পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন।
মিন্নত আলী বলেন,বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছি। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শন করে। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি।
মিন্নত আলীর অভিযোগ, এরপর প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর বসতঘরে ভাঙচুর চালায়। তাঁর ঘরের চালের টিন খুলে ফেলা এবং টয়লেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ও তাঁর বড় ভাইয়ের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে না দিয়েই এসব করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মিন্নত আলী আরও দাবি করেন, আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বসতঘর ও স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে আদালতের রায়ের বিস্তারিত বিষয় বা নথি উপস্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভাঙচুরের পর তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মিন্নত আলী। তাঁর দাবি, থানায় অভিযোগ করার পর প্রতিপক্ষের লোকজন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। বর্তমানে তিনি, তাঁর বড় ভাইসহ তিনটি পরিবার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
মিন্নত আলী বলেন, আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এরপরও যদি বাড়ির রাস্তা বন্ধ থাকে এবং বসতঘর ভাঙচুর করা হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব? বর্তমানে আমি, আমার বড় ভাই ও আমাদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে মিন্নত আলী পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধের আইনগত ও সুষ্ঠু সমাধান, বন্ধ করে দেওয়া চলাচলের রাস্তা দ্রুত উন্মুক্ত করা, বসতঘর ও স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে পৈতৃক সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও অংশীদারত্ব আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করে তাঁদের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান।