ঢাকা,  শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
অপ্রতীমকে হারিয়ে মায়ের আহাজারি

‘এটা কোন দেশ, আমি বাঁচব কীভাবে?’

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২৯, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘এটা কোন দেশ, আমি বাঁচব কীভাবে?’
স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাগলপ্রায় ড. নাহিদা বেগম। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। তার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে কোটবাড়ি এলাকার পরিবেশ।

Advertisement

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী অপ্রতীমের কোটবাড়ির বাসায় গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাহিদা বেগম। বিলাপ করতে করতে সন্তানের মৃত্যুর কারণ জানতে চান তিনি।

নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি জানতে চাই। আমাকে জবাব দেন। আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটাই কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি শুধু সেটার জবাব চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা কোন দেশ? আমি বাঁচব কীভাবে? আমার তো একটাই ছেলে। কীভাবে আমার জীবন কাটাব? আপনারা সবাই বলেন, ওকে ছাড়া আমি আমার জীবন পার করব কীভাবে?’

মায়ের এমন আহাজারিতে উপস্থিত পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে নিজেকেও ধরে রাখতে পারেননি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে অপ্রতীমের পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন তিনি।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতীম। মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি সে।

অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশও তার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালায়।

পুলিশ অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করে। পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হয়।

এরপর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম সিটি করপোরেশনের কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

অপ্রতীমের মৃত্যুর কারণ ও কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: কুমিল্লা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!