ঢাকা,  সোমবার   ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
পাঁচ বছরের প্রেম, শেষে খণ্ডিত লাশ

বিয়ে নিয়ে বিরোধে প্রেমিকের হাতে ডলি খুন, মা ও বন্ধুসহ গ্রেপ্তার ৩

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:১৮, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিয়ে নিয়ে বিরোধে প্রেমিকের হাতে ডলি খুন, মা ও বন্ধুসহ গ্রেপ্তার ৩
গ্রেফতারকৃতরা। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের জয়দেবপুরে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা থেকে নারীর দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ ও জমে থাকা ক্ষোভের জেরে ডলি আক্তার (৩০) নামে ওই নারীকে তাঁর প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২) হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে বটি ও ব্লেড দিয়ে লাশ কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে একাংশ সুটকেসে এবং অপর অংশ বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় প্রেমিক মিশন ইসলাম, তাঁর মা বানু আক্তার (৪৩) ও সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

Advertisement

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।

পিবিআই জানায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জয়দেবপুরের ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একটি খালে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে। পরে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহত ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। তিনি জয়দেবপুর থানার বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় একা ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে মিশনের সঙ্গে ডলির পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের বাসায় যান। বিয়ে নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে মিশন তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে লুঙ্গি ও বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।

পরদিন সকালে মিশনের মা বানু আক্তার লাশটি দেখতে পান। পরে লাশ গুমের পরিকল্পনায় তিনিও যুক্ত হন বলে জানায় পিবিআই। সুটকেসে লাশটি না ধরায় বটি ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়। পরে মিশনের বন্ধু মিল্টনকে ডেকে অটোরিকশায় করে সুটকেস ও বস্তা ভবানীপুরের একটি ব্রিজ থেকে খালে ফেলে দেওয়া হয়।

১২ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। এরপর পিবিআই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, নিহতের পরিচয়পত্র, মুঠোফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/গাজীপুর
ট্যাগ: গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!