এর আগে, গত ১২ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোডের মালিহাতা এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত হন তার স্বামী সৌদি আরবপ্রবাসী ইয়াছিন আহমেদ (২৭)। এক মাসের ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর এমন মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত ইয়াছিন আহমেদ কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর মুসলিমের মোড় এলাকার পূবালী ব্যাংক ভবনের মালিক প্রয়াত বাক্কী মিয়ার ছেলে। তাঁর স্ত্রী তুলি বেগম একই এলাকার স্টেডিয়াম মোড়ের আক্তার হোসেনের মেয়ে।
.png)
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট বুধবার বিকেল ৪টার দিকে স্ত্রী তুলি বেগমকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের তিতাস নদীসংলগ্ন মিনি কক্সবাজার এলাকায় ঘুরতে যান ইয়াছিন। ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে বিশ্বরোডের মালিহাতা এলাকায় একটি ট্রাকের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় ইয়াছিন ও তুলি দুজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান ইয়াছিন। গুরুতর আহত তুলি বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। এরপর প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দুপুরে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১৭ মাস আগে সৌদি আরবে যান ইয়াছিন। গত ২৪ জুলাই তিনি দেশে ফেরেন। সেখানে তিনি ফুড ডেলিভারির কাজ করতেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে তুলি বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আলিফ নামের শিশুটিকে বাড়িতে রেখেই সেদিন স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলেন ইয়াছিন।
তুলির বোন মিতালি মিতু বলেন, প্রায় এক মাস ধরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তুলির। সর্বশেষ নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে তিনি মারা যান।
শুক্রবার বাদ এশা কমলপুর মাদ্রাসা মাঠে তুলি বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কমলপুর কবরস্থানে স্বামী ইয়াছিন আহমেদের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।
স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তাদের দুই বছরের শিশু সন্তান আলিফ এখন মা-বাবাহীন হয়ে পড়েছে।