৬০ বছর ধরে ইট ভাঙছেন তিনি
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের বৃদ্ধ নবী হোসেন ৬০ বছর ধরে ইট ভাঙছেন। ৮২ বছর বয়সেও আজো থামেনি তার ইট ভাঙার কাজ।
নবী হোসেন প্রতিদিন নিয়মিত গামছায় মোড়া ভাতের বাটি আর হাতুড়ি হাতে নিয়ে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাতা মাথায় নিয়ে ইট ভাঙার কাজে ছুটে চলেন।
মোহাম্মদপুর গ্রামের জিন্নত আলী ও আহসান বানুর ছেলে নবী হোসেন পাঁচ সন্তানের জনক।
নবী হোসেন জানান, ২০-২২ বছর বয়স থেকেই ইট ভাঙছেন তিনি। আগের মতো এখন আর শক্তি নেই। চোখের দৃষ্টিও কমে গেছে। এক সময় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট করে ইট ভাঙতে পারতেন।
এখন ১৫ থেকে ২০ ফুটের বেশি ভাঙা সম্ভব হয় না। ইটভাঙা মেশিন বের হওয়ার পর থেকেই মজুরি কমে গেছে। পরিবার নিয়ে চলা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা বসবাস করছেন। স্ত্রী, ছেলে মুন্না ও মেয়ে কামরুন নাহার পলিকে নিয়েই এখন তার সংসার। মুন্না রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। মেয়ে পলি পানছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজে ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্রী। মেয়ের একটি সরকারি চাকরি হলেই তার কষ্ট লাঘব হতো। শেষ বয়সে মেয়ের সরকারি চাকরি দেখে মরে গেলেও তার আর দুঃখ থাকবে না বলে জানালেন তিনি।