সূরা বাকারা: ২১৫-২২৪ নম্বর আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট ও ঘটনা
আমরা এখানে সূরা বাকারার ২১৫-২২৪ নম্বর আয়াতসমূহের উল্লখযোগ্য শানেনুযুল (আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট) তুলে ধরছি-
আরো পড়ুন>>> সূরা বাকারা: ১৯৬-২১৪ নম্বর আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট ও ঘটনা পর্ব- ৮
يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلْ مَا أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍ
অর্থ : তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করে, কী তারা ব্যয় করবে? বলে দাও যে বস্তুই তোমরা ব্যয় কর, তা হবে পিতা মাতার জন্য আত্মীয় আপনজনদের জন্য, এতিম অণাথদের জন্যে এবং অসহায়দের জন্যে এবং মুসাফিরের জন্যে। আর তোমরা যে কোনো সৎকাজ করবে নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত ভালভাবেই আল্লাহর জানা রয়েছে। (আয়াত-২১৫)
.png)
শানে নুযুল : হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, হজরত আমর বিন জামুহ (রা.) অনেক সম্পদশালী ছিলেন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করেছিলেন যে, অর্থাৎ আমাদের সম্পদ হতে কী পরিমান ব্যয় করব এবং কোথায় ব্যয় করব তখন উক্ত আয়াত নাজিল হয়।
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
অর্থ : তোমাদের ওপর লড়াই করাকে লিখে দেয়া হয়েছে যদিও তোমাদের নিকট এটা অপ্রিয়। কিন্তু তোমরা যা অপছন্দ কর; হতে পারে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং যা ভালোবাসো হতে পারে তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন তোমরা জান না। (আয়াত :২১৬)।
আয়াতের মর্ম : যদিও জিহাদ স্বাভাবিকভাবে বোঝা বলে মনে হয়, কিন্তু স্মরণ রেখো, মানুষের বিচক্ষণতা, বুদ্ধি-বিবেচনা ও চেষ্টা পরিণামে অনেক সময় অকৃতকার্য হয়। ভালকে মন্দ এবং মন্দকে ভাল মনে করা বিজ্ঞ ও বড় বুদ্ধিমানের পক্ষেও আশ্চর্যের কিছু নয়। প্রতিটি মানুষই তার জীবনের যাবতীয় ঘটনার প্রতি লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবে যে, তার জীবনেই অনেক ঘটনা রয়েছে, যাতে সে কোন কাজকে অত্যন্ত লাভজনক ও উপকারী মনে করেছিল, কিন্তু পরিণামে তা অত্যন্ত অনিষ্টকর হয়েছে। অথবা কোন বস্তুকে অত্যন্ত ক্ষতিকর মনে করেছিল এবং তা থেকে দূরে সরে ছিল, কিন্তু পরিণামে দেখা গেল, তা অত্যন্ত লাভজনক ও উপকারী ছিল। তাই বলা হয়েছেঃ জিহাদ যদিও আপাতঃদৃষ্টিতে জান ও মালের ক্ষতির আশংকা মনে হয়, কিন্তু যখন পরিণাম সামনে আসবে, তখন বোঝা যাবে যে, এ ক্ষতি বাস্তবে মোটেও ক্ষতি ছিল না; বরং সোজাসুজি লাভ, উপকার এবং চিরস্থায়ী শান্তির ব্যবস্থা ছিল। (মাআরিফুল কোরআন)।
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ اللهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ.
অর্থ : সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং কুফুরী করা, মসজিদে হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিষ্কার করা, আল্লাহর নিকট তারচেয়েও বড় পাপ। (আয়াত : ২১৭)।
শানে নুযুল : হজরত জুনদুব বিন আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশের নেতৃত্বে কাফেরদের মোকাবিলায় একদল সৈন্য প্রেরণ করেন। তারা পথে ইবনে হাদরামি নামক এক কাফেরকে পেয়ে হত্যা করে। কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের জানা ছিল না সে দিন জমাদিউস সানীর ৩০ তারিখ ছিল না কী রজবের প্রথম তারিখ ছিল। তারিখের ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম সংশয়ের মধ্যে পড়ে গেলেন। ওদিকে মুশরিকরা সাহাবায়ে কেরামের প্রতি অভিযোগ তুলল যে, তারা সম্মানিত মাস রজবের প্রতি সম্মান দেখায় না। রজব মাসেই তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তখন উক্ত আয়াত নাজিল হয়। (বায়জাবী-১: ১৪৭, মুখতাছার ইবনে কাছির-১:১৯০, রুহুল মাআনী-২:১০৭)।
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُواْ وَالَّذِينَ هَاجَرُواْ وَجَاهَدُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ أُوْلَـئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللّهِ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থ : আর এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নাই যে, যারা ঈমান এনেছে এবং হিজরত করেছে আর আল্লাহর পথে লড়াই (জিহাদ) করেছে তারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী দয়ালু। (আয়াত- ২১৮)।
শানে নুযুল : আব্দুল্লাহ বিন জাহাশ ও তার সাথীরা উল্লেখিত ঘটনার কারণে বলতে লাগল সম্মানিত মাসের লড়াইয়ের কারণে যদি আমাদের কোনো গুনাহ নেই। কিন্তু আমরা সওয়াবের অধিকারী হবো না তখন উক্ত আয়াত নাজিল হয়। (বায়জাবী-১:১৪৮)।
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَآ أَكْبَرُ
অর্থ : তারা তোমাকে মদ জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলে দিন, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্য উপকারিতাও রয়েছে তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। (আয়াত: ২১৯)।
শানে নুযুল : ইসলামের প্রথম যুগে জাহেলিয়াত যুগের সাধারণ রীতি নীতির মতো মদ্য পানও স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। অতঃপর রাসূলে করিম (সা.) এর হিজরতের পরেও মদিনাবাসীদের মধ্যেও মদ্য পান ও জুয়ার প্রথা প্রচলিত ছিল। সাধারণ মানুষ এ দু’টি বস্তুর শুধু বাহ্যিক উপকারিতার প্রতি লক্ষ্য করেই এতে মত্ত ছিল। কিন্তু এগুলোর অন্তর্নিহিত অকল্যাণ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। তবে আল্লাহার নিয়ম হচ্ছে এই যে, প্রত্যেক জাতি ও প্রত্যেক অঞ্চলে কিছু বুদ্ধিমান ব্যক্তি ও থাকেন যারা বিবেক বুদ্ধিকে অভ্যাসের ওপর স্থান দেন যদি কোনো অভ্যাস বিবেক বুদ্ধির পরিপন্থী হয় তবে সে অভ্যাসের ধারে কাছেও তারা যায় না। এ ব্যাপারে নবী করিম (সা.) এর স্থান ছিল সবচেয়ে উর্দ্ধে। কেননা যে সব বস্তু কোনো কালে হালাল হারাম হবে এমন বস্তুর প্রতিও তার অন্তরে একটা সহজাত ঘৃনা ছিল। সাহাবীগণের মধ্যেও এমন কিছু সংখ্যক লোক ছিলেন যারা হালাল থাকা কালেও মদ পান তো দূরের কথা তা স্পর্শও করেনি। মদিনায় পৌঁছার পর কতিপয় সাহাবী এসব বিষয়ের অকল্যাণগুলো অনুভব করলেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে হজরত ফারুকে আজম, হজরত মাআজ বিন জাবাল এবং কিছু সংখ্যক আনছার রাসূলে করিম (সা.) এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, মদ ও জুয়া মানুষের বুদ্ধি বিবেচনাকে পর্যন্ত বিলুপ্ত করে ফেলে এবং ধন সম্পদ ধ্বংস করে দেয় এ সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কী? এ প্রশ্নের উত্তরে আলোচ্য আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। এ হচ্ছে, প্রথম আয়াত যা মুসলমানদেরকে মদ ও জুয়া থেকে দূরে রাখার পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ
অর্থ : আর লোকেরা আপনার কাছে জিজ্ঞাসা করে তারা কি ব্যয় করবে? বলে দিন, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাচে তাই খরচ করবে। (আয়াত-২১৯)।
শানে নুযুল : একবার মুয়াজ ইবনে জাবাল এবং সায়লাবা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.) এর দরবারে এসে আরজ করলেন যে, আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদেরকে তার রাহে খরচ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আর আমাদের কাছে গোলামও গৃহপালিত পশু ইত্যাদি বিভিন্ন সম্পদ রয়েছে এর মধ্য থেকে আমরা কী কী দান করব? এর জবাবে আলোচ্য আয়াত নাজিল হয়। (কানযুন নুকুল-১৮)।
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى قُلْ إِصْلاَحٌ لَّهُمْ خَيْرٌ
অর্থ : আর আপনার কাছে জিজ্ঞাসা করে এতীম সংক্রান্ত হুকুম। বলে দিন, তাদের কাজ কর্ম সঠিকভাবে গুছিয়ে দেয়া উত্তম আর যদি তাদের ব্যয়ভার নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নাও তাহলে মনে করবে তারা তোমাদের ভাই। বস্তুত: অমঙ্গলকামী ও মঙ্গলকামীদেরকে আল্লাহ জানেন। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তোমাদের ওপর জটিলতা আরোপ করতে পারতেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশীল। মহাপ্রজ্ঞাময়। (আয়াত-২২০)।
শানে নুযুল : হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। যখন পবিত্র কোরআনের এ দু’টি আয়াত নাজিল হলো- তখন সাহাবায়ে কেরাম (রা.) যাদের ঘরে এতীম ছিল, তারা এতীমদের খাওয়া দাওয়া সম্পূর্ণ আলাদা করে দিল। তাদের জন্য আলাদা খাবার তৈরী করতেন এবং খাওয়া শেষে যা অবশিষ্ট থেকে যেত তা রেখে দিয়ে তাদেরকেই খাওয়াতেন। কিংবা নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু নিজেরা তার কিছুই স্পর্শ করতেন না। এভাবে বিষয়টি তাদের জন্য বেশ জটিল হয়ে দাঁড়াল। তখন তারা বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে পেশ করলে এ আয়াত নাজিল হয়।
وَلاَ تَنكِحُواْ الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلاَ تُنكِحُواْ الْمُشِرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُواْ وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ.
অর্থ : আর তোমরা মুশরিক নারীদেরকে বিয়ে করো না। যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে, আর মুসলমান ক্রীতদাসী মুশরিক নারী অপেক্ষা উত্তম। যদিও তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোনো মুশরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত সে ঈমান না আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাসও একজন মুশরিকেরও তুলনায় অনেক ভালো, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা দোযখের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে আহ্বান করেন জান্নাত ও ক্ষমার দিকে। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। (আয়াত-২২১)।
শানে নুযুল : হজরত মুকাতেল বলেন, আলোচ্য আয়াতটি ইবনে আবি খারছা গানাভী সম্পর্কে নাজিল হয়েছে। তিনি রাসূলে করিম (সা.) এর দরবারে জনৈক মুশরিকা মেয়েকে বিবাহ করার অনুমতি চাইলেন মেয়েটি ছিল অত্যন্ত সুন্দরী এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের এ প্রসঙ্গে এ আয়াত নাজিল হয়।
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ
অর্থ : তারা তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েজ (ঋতু) সম্পর্কে, বলে দিন, এটা অশুছি। কাজেই তোমরা হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রুপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীও অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। (আয়াত-২২২)।
শানে নুযুল : ইহুদীদের মাঝে এ প্রথা ছিল যে, তাদের নারীদের (হায়েজ) ঋতুস্রাব হলে তাদের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া উঠা বসা সব বন্ধ করে দিত। অন্য দিকে খ্রীষ্টানরা ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম অর্থাৎ তারা খাওয়া দাওয়া উঠা-বসা স্ত্রীগমন করত। একবার ছাবিত বিন ওহদাহ রাসূলে করিম (সা.)-কে হায়েজা নারীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, যে হায়েজ (ঋতুস্রাব) অবস্থায় আমরা নারীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করব? তখন উক্ত আয়াত নাজিল হয়। (তাফসিরে আহমাদ-৭০)।
نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُواْ حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ وَقَدِّمُواْ لأَنفُسِكُمْ
অর্থ : তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। (আয়াত : ২২৩)।
শানে নুযুল : এ আয়াতটির শানে নুযুল সম্পর্কে কয়েকটি ঘটনা বর্ণিত আছে। সবগুলোই এ আয়াতের শানে নুযুল হতে পারে। (১) হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত ইয়াহুদীরা বলত কেউ যদি পেছনের দিক থেকে (যোনীদ্বার) দিয়ে স্ত্রী সঙ্গম করে তবে সন্তান ট্যারা চোখ বিশিষ্ট হয় তখন উক্ত আয়াত নাজিল হয়। (২) হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন একদিন হজরত ওমর (রা.) রাসূলে করিম (সা.) এর দরবারে এসে বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.)! আমি তো হালাক হয়ে গিয়েছি। তিনি বললেন, কিসে তোমাকে হালাক করল। ওমর (রা.) বললেন, রাতে আমার বাহনটি উল্টো করে ব্যবহার করে ফেলেছি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল (সা.) তাকে কোনো উত্তর দিলেন না তখন উক্ত আয়াতটি নাজিল হয়। তাতে বলা হয়েছে সামনের দিক থেকে ও পেছনের দিক থেকে উভয়ভাবে স্ত্রী গমন করা যাবে তবে মলদ্বার এবং হায়েজ অবস্থা থেকে বেঁচে থাকবে। (তিরমিযি- ২)।
وَلاَ تَجْعَلُواْ اللهَ عُرْضَةً لِّأَيْمَانِكُمْ أَن تَبَرُّواْ وَتَتَّقُواْ وَتُصْلِحُواْ بَيْنَ النَّاسِ وَاللهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
অর্থ : আর নিজেদের শপথের জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষ বস্তু বানিও না মানুষের সঙ্গে কোনো আচার আচরণ থেকে, পরহেযগারী থেকে এবং মানুষের মাঝে মীমাংসা করে দেয়া থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য। আল্লাহ সব কিছুই শুনেন জানেন। (আয়াত-২২৪)।
শানে নুযুল : মেছতাহ নামক এক ব্যক্তি ছিল যাকে আবু বকর (রা.) দান দক্ষিনা করত। সে আয়েশা (রা.) এর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনাকারীদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তখন আবু সিদ্দিক (রা.) আল্লাহর নামে কসম খেয়েছেন যে, মেছতাহকে কোনো দান দক্ষিনা করবেন না তখন উক্ত আয়াত নাজিল হয়। চলবে...