সূরা বাকারা: ১৯৬-২১৪ নম্বর আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট ও ঘটনা
আমরা এখানে সূরা বাকারার ১৯৬-২১৪ নম্বর আয়াতসমূহের উল্লখযোগ্য শানেনুযুল (আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট) তুলে ধরছি-
আরো পড়ুন>>> সূরা বাকারা: ১৭৮-১৯৫ নম্বর আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট ও ঘটনা পর্ব-৭
وَأَتِمُّواْ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلّهِ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ وَلاَ تَحْلِقُواْ رُؤُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضاً أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ فَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ذَلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
অর্থ : আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও ওমরাহ পরিপূর্ণ ভাবে পালন কর। যদি তোমরা বাধা প্রাপ্ত হও, তাহলে কোরবানীর জন্য যাকিছু সহজলভ্য, তাই তোমাদের ওপর ধার্য। আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবাণী যথাস্থানে পৌছে যাবে। যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়বে কিংবা মাথায় যদি কোনো কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে রোজা করবে কিংবা খয়রাত দেবে অথবা কোরবানী করবে। আর তোমাদের মধ্যে যারা হজ ও ওমরাহ একই সঙ্গে পালন করতে চাও, তবে যাকিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে কোরবানী করাই তার ওপর কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা কোরবানীর পশু পাবে না, তারা হজে দিনগুলোর মধ্যে রোজা রাখবে তিনটি আর সাতটি রোজা রাখবে ফিরে যাবার পর। এভাবে দশটি রোজা পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নির্দেশটি তাদের জন্য, যাদের পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের আশে-পাশে বসবাস করে না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। সন্দেহাতীতভাবে জেনো যে, আল্লাহর আজাব বড়ই কঠিন। (আয়াত-১৯৬)।
.png)
শানে নুযুল : হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। ষষ্ঠ হিজরীতে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে নিয়ে হজ পালনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। হুদাইবিয়া নামক স্থানে পৌঁছার পর মক্কার কাফেররা তাদেরকে বাঁধা প্রদান করে। তখন আলোচ্য আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।
الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُومَاتٌ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلاَ رَفَثَ وَلاَ فُسُوقَ وَلاَ جِدَالَ فِي الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُواْ مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ وَتَزَوَّدُواْ فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى وَاتَّقُونِ يَا أُوْلِي الأَلْبَابِ
অর্থ : হজের কয়েকটি নির্দিষ্ট মাস রয়েছে। অত:পর যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে (ইহরাম বেঁধে) হজ করা স্থীর করে তার জন্য হজের সময়ে স্ত্রী সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও কলোহ-বিবাদ বিধীয় নয়। তোমরা উত্তম কাজে যা কিছু করো আল্লাহ তা জানেন। (আর হজের সফরে) পাথেয় সঙ্গে করে নেবে। তবে আত্মসংযম-তাকওয়াই উত্তম পাথেয়। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ! তোমরা আমাকে ভয় করো। (আয়াত-১৯৭)।
শানে নুযুল : একসময়ে একটি ইয়েমেনী কাফেলা হজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে এবং নিজেদেরকে আল্লাহর ওপর ভরসাকারী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে পথের খরচ ও পাথেয় ছাড়াই চলতে শুরু করে। মক্কায় পৌঁছে তারা যখন প্রয়োজনীয় কার্যাদি ও খাদ্য পানীয়’র অভাব মিটাতে চাইল, আর টাকার অভাবে তা করতে না পেরে ওরা লোকজনের কাছে হাত পাততে শুরু করল, তখন তাদেরকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তায়ালা এ আয়াতগুলো নাজিল করেন। বলা হলো যে, হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা! তোমরা পাথেয় অর্জন করে প্রয়োজনীয় সম্বল সঙ্গে নিয়ে হজের জন্য বের হবে, যাতে কারো গলগ্রহ হতে না হয়। অন্যথায় তোমাদেরকে পরের নিকট হাত পাততে হবে, যা রীতিমতো তাকওয়া এর পরিপন্থি কাজ।
ثُمَّ أَفِيضُواْ مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُواْ اللهَ إِنَّ اللهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থ : অত:পর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে তোমরা সে স্থান থেকে রওয়ানা করবে। আর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে। নি:সন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল, বড়ই মেহেরবান। (আয়াত-১৯৯)।
শানে নুযূল : হজরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত। জাহেলিয়াতের যুগেও হজ করার প্রচলন ছিল। হজের সময় সকল আরববাসী আরাফার ময়দানে অবস্থান করত। কুরাইশগণ নিজেদের বড় মনে করে হজ ক্রিয়ায় আরাফাহ পর্যন্ত যেত না; বরং মুযদালিফায় গিয়ে অবস্থান করত এবং সেখান থেকে ফিরে আসত। যখন ইসলামে হজ ফরজ হয় তখন মুসলমানদের মধ্যে জাহিলিয়া সে নিয়ম নিষিদ্ধ ঘোষণায় উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়। (বুখারী ও মুসলিম)।
فَإِذَا قَضَيْتُم مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُواْ اللَّهَ كَذِكْرِكُمْ آبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا فَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا وَمَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنْ خَلاَقٍ.
অর্থ : অত:পর যখন তোমরা হজের অনুষ্ঠানাদী সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহকে এমনভাবে স্মরণ করবে যেমন তোমরা তোমাদের পিতৃ-পুরুষগণকে স্মরণ করবে অথবা তদপেক্ষা অভিনিবেশসহকারে। মানুষের মধ্যে যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ইহকালই দাও’, বস্তুত তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। (আয়াত-২০০)।
শানে নুযুল : ইমাম সুয়ূতী রহ. তার লুবানুন নুকূল গ্রন্থে এবং সাইয়েদ আলূসী তার তাফসীরে রুহুল মাআনীতে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, জাহেলি যুগে আরবরা হজের অনুষ্ঠানাদি সমাপন করে মসজিদে মিনা এবং পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে জামরার নিকট একত্রিত হলে, নিজেদের পিতৃপুরুষদের বীরত্ব গাঁথা, কৃতিত্ব, মহত্ত ও দানশীলতার কথা বর্ণনা করত এবং গর্ব ও অহঙ্কার প্রকাশ করত। তাদের এ ধরনের জাহেলি কাজকে নিষিদ্ধ করে আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত নাজিল করেন এবং পিতৃ পুরুষের স্মরণের স্থলে তাকে স্মরণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। অথবা হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আরবের কোনো কোনো জাতির এমন নীতি ছিল যে, যখন তারা মিনায় একত্রিত হতো তখন দোয়া করত, হে প্রভু! এ বছর আমাদের খুব স্বাচ্চন্দ্য এবং প্রশস্ততা দান কর, অভাব-অনটন দিও না, বৃষ্টি বর্ষণ করুন, কিন্তু তারা আখিরাত সম্পর্কে কিছুই প্রার্থনা করত না। এ ব্যাপারে উপরিউক্ত আয়াত নাজিল হয়।
وِمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
অর্থ : আর তাদের মধ্যে থেকে যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও এবং আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদের আগুনের আজাব হতে রক্ষা করো। (২০১)।
শানে নুযুল : হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। জাহিলিয়াতের যুগে আরববাসীরা হজের কাজ সমাধান করে মিনায় একত্রিত হয়ে দোয়া করত, হে আল্লাহ! এ বছর আমাদেরকে স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রশস্ততা দান করুন, আমাদের অভাব-অনটন দেবেন না, বৃষ্টি বর্ষণ করুন ইত্যাদি বলে তারা কেবলমাত্র পার্থিব সুখ শান্তি কামনা করত। আখিরাতের জন্য কিছুই কামনা করত না। কেননা তাদের অনেকেই আখেরাতকে অস্বীকার করত এবং আখেরাতের সংঘটন সম্পর্কে অবগত ছিল না। তারা দুনিয়াকেই সবকিছু মনে করত। তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের আকিদা বিশ্বাসের মূলে কঠোরাঘাত করে বললেন, যদি তোমরা আখেরাত না চাও, কেবল দুনিয়া চাও, তাহলে আখেরাতে তোমাদের জন্য কিছুই থাকবে না।
وَمِنَ النَّاسِ مَن يُعْجِبُكَ قَوْلُهُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيُشْهِدُ اللهَ عَلَى مَا فِي قَلْبِهِ
অর্থ : আর এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করবে। আর তারা সাক্ষ্য স্থাপন করে আল্লাহকে নিজের মনের কথার ব্যাপারে। প্রকৃতপক্ষে তারা কঠিন ঝগড়াটে লোক। (আয়াত- ২০৪)
শানে নুযুল : আখনাস বিন শারিক এর ব্যাপারে এই আয়াতটি নাজিল হয়েছে। সে একজন মুনাফেক ও মিষ্টভাষী ছিল। সে রাসূলের দরবারে এসে রাসূলের ভালবাসার দাবী করত। আর এই ব্যাপারে সে আল্লাহকে সাক্ষী স্থাপন করত। এবং মিষ্ট কথার মাধ্যমে রাসূলকে আকৃষ্ট করে ফেলত। কিন্তু যখন সে মুসলমানদের শস্য ক্ষেত ও গবাদী পশুর পাশ দিয়ে যেত তখন তা জ্বালিয়ে ফেলত। তখন আল্লাহ তায়ালা তার এরুপ আচরণের কারণে হুজুর (সা.)-কে সতর্কতা করার জন্যে উল্লিখিত আয়াত নাজিল করেন।
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللهِ وَاللهُ رَؤُوفٌ بِالْعِبَادِ
অর্থ : মানুষের মাঝে এক শ্রেণীর লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিকল্পে নিজেদের জানের বাজি রাখে। আল্লাহ হলেন তার বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান। (আয়াত: ৩০৭)।
শানে নুযুল : এই আয়াত হজরত সুহাইব রুমী (রা.) এর ব্যাপারে নাজিল হয়। হজরত সুহাইব রুমী (রা.) যখন মদিনার পানে রওয়ানা হন তখন মক্কার কাফেররা তার গতিরোধ করে। তখন তিনি তুনীর থেকে তীর বের করলেন। আর বলল, তোমরা জান আমি একজন দক্ষ তীরন্দাজ। আমার তীর কখনো লক্ষভ্রষ্ট হয় না। আমার হাতে একটা তীর থাকা পর্যন্ত তোমরা কেউ আমার সঙ্গে ঘেষতে পারবে না। যখন তীর শেষ হয়ে যাবে তখন তলোয়ার দিয়ে লড়াই করে যাব। যখন তলোয়ার ভেঙ্গে যাবে তখন তোমরা যা ইচ্ছা তাই করো। তবে তোমাদের আমি একটি উত্তম প্রস্তাব দিচ্ছি আমি মক্কায় সহায় সম্পত্তি সব রেখে এসেছি তোমরা সেগুলো নিয়ে যাও। এবং বিনিময়ে আমার পথ ছেড়ে দাও। তখন কাফেররা তার প্রস্তাবে রাজী হয়ে তার পথ ছেড়ে দিল। তিনি মদিনায় পৌঁছে পূর্ণ ঘটনা বললে হুজুর (সা.) বললেন, ربح البيع ابا يحى তখনই এই আয়াত নাজিল হয়।
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ ادْخُلُواْ فِي السِّلْمِ كَآفَّةً
অর্থ : হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণ ভাবে ইসলামের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রুপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (আয়াত-২০৮)।
শানে নুযুল : আয়াতটি আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম ও তার সঙ্গীদের ব্যাপারে নাজিল হয়। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, ইহুদী ধর্মে শনিবার দিনটিকে সম্মান করা ওয়াজিব ছিল এবং উটের গোশত খাওয়া হারাম ছিল। তাই তাদের ধারণা হলো ইহুদী ধর্মে শনিবার দিনকে সম্মান করা ওয়াজিব। ইসলাম ধর্মে উহাকে অসম্মান করা ওয়াজিব নয় তদ্রুপ ইহুদী ধর্মে উটের গোশত খাওয়া হরাম কিন্তু ইসলাম ধর্মে উটের গোশত খাওয়া বাধ্য করা হয়নি। অর্থাৎ হালাল। অতএব, আমরা শনিবারকে সম্মান করি এবং উটের গোশত খাওয়া হালাল জানা সত্তেও যদি ইহা বর্জন করি তাহলে মুসা (আ.) ধর্মের প্রতি আস্থা রইল এবং ইসলাম ধর্মের প্রতি বিরোধীতা হলো না। ফলে আমাদের উভয়ই কুল রক্ষা পাবে। তাছাড়া এর দ্বারা ধর্মের প্রতি আস্থা, আল্লাহর প্রতি বিনয়ী অতি মাত্রায় প্রকাশ পাবে। তাই তারা রাসূলের দরবারে একথাটি প্রকাশ করল। তখন আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের ধারণাকে প্রত্যাখান করে দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করে দিলেন।
زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُواْ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُواْ وَالَّذِينَ اتَّقَواْ فَوْقَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَاللَّهُ يَرْزُقُ مَن يَشَاء بِغَيْرِ حِسَابٍ
অর্থ : যারা কুফরি করে তাদের নিকট পার্থিব জীবন সুশোভিত করা হয়েছে। তারা মুমিনদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে থাকে, তবে যারা তাকওয়া অবলম্বন করে কেয়ামতের দিন তারা তাদের থেকে উর্ধ্বে থাকবে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সীমাহীন রুযী দান করেন। (আয়াত: ২১২)
শানে নুযূল : ইমাম সুয়ূতী রহ. তাঁর لُبَابُ النُّقُوْلِ فِىْ اَسْبَابِ النُّذُوْلِ গ্রন্থে বলেন, আরবের মুশরিকরা অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্র সাহাবীদের দেখে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত। যেমন: হজরত আবু উবায়দা, আমের, সালেম, খাব্বাব, আম্মার আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ও অন্যান্যদেরকে তারা বলতো, মুহাম্মদ কি শুধু গরিব কর্তৃক অনুসৃত হওয়াতেই খুশি? যদি মুহাম্মাদ এর ধর্ম সত্য হতো তাহলে ধনী লোকেরাও তাঁর অনুসারী হতো। এসব গরীব লোকের অনুসরণে তাঁর কি কাজ? তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের এসব উক্তির জবাবে এ আয়াতটি নাজিল করেন।
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُواْ الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْاْ مِن قَبْلِكُم
অর্থ : তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে। অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের ওপরে এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনিভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তার প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য। তোমরা শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী। (আয়াত-২১৪)।
শানে নুযুল : কোনো কোনো মুফাসসিরীনে কেরাম বলেন, খন্দকের মুজাহিদদের সান্তনা দেয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাজিল করেন। কেউ কেউ বলেন, উহুদের যুদ্ধে সাহাবায়ে কেরামদের সান্তনা দেয়ার জন্য এই আয়াত নাজিল হয়। যারা মক্কায় সহায় সম্পত্তি রেখে হিজরত করে চলে এসেছে।