Alexa নার্সারি ব্যবসায় সংসারে হাসি ফোটালেন খলিলুর 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৬,   ০৩ রজব ১৪৪১

Akash

নার্সারি ব্যবসায় সংসারে হাসি ফোটালেন খলিলুর 

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:০২ ২৯ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ভ্যান গাড়িতে করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেন খলিলুর রহমান ও তার ছেলে মো. বাবু মিয়া। বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও অন্যান্য গাছের চারা নিয়ে পৌর শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান তারা। আকাশি, মেহগনি, শিলকড়ই, জাম, কাঁঠাল গোলাপ, জবা, ডালিয়া, সূর্যমুখী, হাসনাহেনাসহ বিভিন্ন ফলজ ও বৃক্ষ চারা কেনাবেচাই তাদের কাজ। এসবই তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে।

কথায় আছে, ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। ইচ্ছা, শ্রম আর আত্মবিশ্বাস- এই তিন বিষয়কে কাজে লাগিয়েই বাবা-ছেলে নার্সারি ব্যবসায় নিজেদের ভাগ্য বদল করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।  

আখাউড়া পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকায় তাদের বাস। সেখানেই গড়ে তুলেছেন ভূইয়া নার্সারি। প্রতিদিনই সকাল সকাল বাবা-ছেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। ভ্যান গাড়ির মাধ্যমে হাটবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত ফলজ ও বৃক্ষের চারা  বিক্রি করেন। এছাড়া নিয়মিত নার্সারির পরিচর্যাও করেন তারা।

খলিলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে নার্সারির জন্য বীজ ও গাছের চারা সংগ্রহ করেন তারা। পাশাপাশি নিজের নার্সারি থেকে গাছের চারা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহও করেন। তাদের নার্সারি থেকে সারা বছরই পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের চারার চাহিদা মেটানো হয়। ভূইয়া নার্সারিতে ২০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা মূল্যের চারা পাওয়া যায়। 

তিনি আরো জানান, এক সময় স্ত্রী, দুই ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে অভাব-অনটনে জীবনযুদ্ধে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। প্রতিদিন কাজ করলেই মুখে খাবার জুটত। সংসারে একের পর এক লেগে ছিলো সীমাহীন অভাব। স্ত্রী, ছেলে-সন্তান নিয়ে দিনযাপন করা খুবই কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছিল। 

খলিলুর রহমান বলেন, পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানোর ইচ্ছা থেকেই নার্সারির প্রতি আগ্রহ জন্মে। বাড়ির পাশের অল্প পরিমাণ জমিতে বেলজিয়াম, আকাশি, মেহগনি, শিলকড়ই, জাম, কাঁঠাল গোলাপ, জবা, ডালিয়া, সূর্যমুখী, হাসনাহেনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বৃক্ষ চারা রোপণ করেন।  স্ত্রী, সন্তান নিয়ে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম আর যত্নে বড় করে তুলেন চারাগুলো।  

তিনি বলেন, প্রথম বছর প্রায় তিন হাজার গাছের চারা রোপণ করি। খরচ বাদ দিয়ে আয় হয় ৩০ হাজার টাকার ওপর। এ থেকেই মনোবল আরো বাড়ে। পরের বছর সাত থেকে আট হাজার গাছের চারা রোপণ করে দ্বিগুন টাকা আয় করি। তিনি বলেন, নার্সারি ব্যবসা প্রায় ২০ বছর ধরে করছি। ঠিকভাবে করতে পারলে এই ব্যবসায় আয় ভালো। এ দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে কোনো ধরনের সমস্যা হয় না। 

এরইমধ্যে চার মেয়ের মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন খলিলুর রহমান। অন্যান্য ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করছেন। পরিবারের সব সদস্যরাই নার্সারির কাজে নিয়মিত সাহায্য করেন। বর্তমানে তার সংসারে কোনো ধরনের অভাব-অনটন নেই বলে জানান খলিলুর রহমান। 

ছেলে বাবু মিয়া বলেন, নার্সারিতে চারা বিক্রির পাশাপাশি পৌর শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভ্যান গাড়িতে করে চারা বিক্রি করা হয়। এলাকায় চারার বেশ চাহিদা রয়েছে। আর বার মাসই চারা বিক্রি হয়। তবে বর্ষা মৌসুমে কাঠ ও ফলের গাছের চাহিদা একটু বেশি থাকে।

নার্সারি ব্যবসায় কঠোর পরিশ্রম করে বর্তমানে খালিলুর রহমানের সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। আয় দিয়ে বৃদ্ধি করেছেন নার্সারির জায়গাও। ভূইয়া নার্সারি বর্তমানে উপজেলায় বেশ পরিচিতি কুঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাফর মিয়া বলেন, ভূইয়া নার্সারিতে এখন বহু জাতের গাছের চারা পাওয়া যায়। নার্সারি ব্যবসায় তিনি এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর