ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ তথ্য প্রযুক্তি ]

এআই ব্যবহারে গোপনীয়তা রক্ষায় সতর্ক হোন

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৫, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এআই ব্যবহারে গোপনীয়তা রক্ষায় সতর্ক হোন
চ্যাটবটকে সাহায্য করতে গিয়ে আমরা নিজের সম্পর্কে এমন অনেক তথ্য জানিয়ে ফেলি। ছবি: এআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত পরামর্শ কিংবা বিভিন্ন বিষয় বুঝতে অনেকেই চ্যাটবটের সহায়তা নিচ্ছেন। তবে সুবিধার পাশাপাশি এআই ব্যবহারে তৈরি হচ্ছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নতুন ঝুঁকি।

চ্যাটবটের কাছ থেকে সহায়তা নিতে গিয়ে অনেকে নিজের সম্পর্কে এমন তথ্য শেয়ার করেন, যা ভুল হাতে পড়লে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জন্মতারিখ, বাসার অবস্থান, পেশা, পরিবারের সদস্যদের তথ্য কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ—একাধিক তথ্য একসঙ্গে দেওয়া হলে কারও পরিচয় ও জীবনযাপন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা তৈরি করা সম্ভব।

Advertisement

তাই এআইকে প্রশ্ন করার সময় সরাসরি নিজের পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্য না দিয়ে সাধারণভাবে প্রশ্ন করা নিরাপদ। যেমন, নিজের জন্মতারিখ জানিয়ে ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কোনো মাসে জন্ম নেওয়া মানুষের সাধারণ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা যেতে পারে। এতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে, অথচ ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশের ঝুঁকি কমবে।

শিশুদের তথ্যেও বাড়তি সতর্কতা

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের নাম, স্কুলের নাম, শ্রেণি, প্রতিদিন কখন স্কুলে যায় বা কখন বাসায় থাকে—এ ধরনের তথ্য এআই চ্যাটে প্রকাশ না করাই ভালো।

বিভিন্ন উৎস থেকে এসব তথ্য একত্র করা হলে অপরিচিত কেউ একটি শিশুর দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে। তাই শিশুর পরিচয়, অবস্থান ও দৈনন্দিন কার্যক্রমসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা জরুরি।

স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য শেয়ারেও সতর্কতা

স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। নিজের রোগের ইতিহাস, পরিবারের কারও নির্দিষ্ট রোগ, চিকিৎসার নথি কিংবা অন্য কোনো সংবেদনশীল স্বাস্থ্যতথ্য অপ্রয়োজনে চ্যাটবটে দেওয়া উচিত নয়।

কোনো রোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নিজের পরিচয় বা ব্যক্তিগত চিকিৎসা ইতিহাস প্রকাশ না করে ওই রোগের সাধারণ উপসর্গ, ঝুঁকি ও চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা যেতে পারে।

প্রাইভেসি নীতিমালা জানা জরুরি

এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনকে সবসময় ব্যক্তিগত ডায়েরির মতো মনে করা ঠিক নয়। বিভিন্ন এআই সেবায় ব্যবহারকারীর তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ, ব্যবহার বা মডেল উন্নয়নে কাজে লাগানো হয়, তা একেক প্ল্যাটফর্মে একেক রকম হতে পারে।

তাই কোনো চ্যাটবট ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট সেবার প্রাইভেসি সেটিংস ও নীতিমালা দেখে নেওয়া ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহজ একটি নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে—যে তথ্য অপরিচিত কাউকে জানানো নিরাপদ মনে হয় না, সেটি চ্যাটবটকেও না বলাই ভালো।

বিশেষ করে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক বা কার্ডের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, ব্যক্তিগত ঠিকানা, গোপন নথি কিংবা অন্যের সংবেদনশীল তথ্য কোনোভাবেই চ্যাটবটে শেয়ার করা উচিত নয়।

এআই আমাদের দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীরই। চ্যাটবটকে যত বেশি ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া হবে, উত্তর তত বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে পারে—একই সঙ্গে বাড়তে পারে তথ্য প্রকাশের ঝুঁকিও। তাই প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করুন, তবে নিজের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের সীমারেখা নিজের নিয়ন্ত্রণেই রাখুন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!