রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে পুতিনের দল
রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমা নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থিত ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়া এগিয়ে রয়েছে। আংশিক ফলাফলে দলটি ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
তিন দিন ধরে চলা ভোটগ্রহণ রোববার শেষ হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম স্টেট ডুমা নির্বাচন।
.png)
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইউনাইটেড রাশিয়া অন্য দলগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফল পরিবর্তিত হতে পারে এবং চূড়ান্ত ফল ২৫ সেপ্টেম্বরের আগে প্রকাশিত হওয়ার কথা নয়।
পুতিন এ নির্বাচনকে তার সরকারের সামরিক ও রাজনৈতিক নীতির প্রতি জনগণের সমর্থনের একটি ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছেন। ভোট শুরুর আগে তিনি বলেন, ভোটারদের অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইউক্রেনে লড়াইরত রুশ সেনাদের প্রতি জনগণের সমর্থনের বিষয়টি আবারও প্রতিফলিত হবে।
এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে কঠোর রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেমলিনবিরোধী কার্যকর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সীমিত ছিল। রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির একমাত্র নিবন্ধিত যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকোর কেন্দ্রীয় তালিকা বাতিল করে দেওয়ায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
তবে পুতিন নিজে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন না। এর আগে ২০২১ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়া ৪৫০টি আসনের মধ্যে ৩২৪টিতে জয় পেয়েছিল।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই নির্বাচন শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণের শেষ দিনে মস্কো ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। রুশ কর্মকর্তারা হামলায় হতাহত ও অবকাঠামো ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসব হামলাকে নির্বাচন ব্যাহত করার প্রচেষ্টা বলা হলেও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ নিশ্চিত করা হয়নি।
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও ছিল আলোচনায়। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ভোট পড়েছে প্রায় ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ৪৫০ সদস্যের স্টেট ডুমার অর্ধেক আসন দলীয় তালিকার মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক একক আসনের নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
প্রাথমিক ফলাফলে ইউনাইটেড রাশিয়ার পর কমিউনিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপিআর), নিউ পিপল এবং এ জাস্ট রাশিয়া পাঁচ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশের পথে রয়েছে।
রাশিয়ার বাইরে থাকা নাগরিকদেরও তিন দিনের এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ভারতে থাকা রুশ নাগরিকদের জন্য দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই ও গোয়ায় ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। নয়াদিল্লিতে ভোট দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেনিস আলিপভ।
ভোট গণনা অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।