ঢাকা,  সোমবার   ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ স্পটলাইট ]

বেনামি শেয়ারে ইবিএলে শওকতের ২০% নিয়ন্ত্রণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:৫২, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেনামি শেয়ারে ইবিএলে শওকতের ২০% নিয়ন্ত্রণ
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)-এর সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)-এর সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে বেনামি ও প্রক্সি শেয়ারের মাধ্যমে ব্যাংকটির প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ১০ শতাংশ সীমার বেশি শেয়ার তিনি পরিবারের সদস্য, স্বজন, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ধরে রেখেছেন। তদন্ত চলাকালেই এসব প্রক্সি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রির তথ্যও সামনে এসেছে। এ ঘটনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি লঙ্ঘন, সংশ্লিষ্ট লেনদেন এবং শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইবিএলের মোট ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যা ২০১৭ সালের ২০ জুলাই ২১ দশমিক ১০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। অথচ ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি, তার পরিবার বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য শেয়ার ধারণের সীমা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ।

নথি অনুযায়ী, ডেপুটি গভর্নর-৩-এর চলতি বছরের ১৩ এপ্রিলের অনুমোদনক্রমে ইবিএলের প্রধান কার্যালয়ে ওই বিশেষ পরিদর্শন পরিচালিত হয়। ব্যাংক-সরবরাহকৃত নথি, শেয়ার হোল্ডিং রিপোর্ট, স্থিতিপত্র, আয়কর নথি এবং রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজের (আরজেএসসি) দলিল বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করেন ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগের একজন অতিরিক্ত পরিচালক এবং একজন সহকারী পরিচালক। 

Advertisement

ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে, প্রত্যক্ষ ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারিন, দুই কন্যা জারা নামরীন ও সাবাহ সামরিন, পুত্র জারান আলী চৌধুরী এবং নামরীন এন্টারপ্রাইজ ও জেড.এন. এন্টারপ্রাইজের নামে। আর পরোক্ষ ১০ দশমিক ৫০ শতাংশের কেন্দ্রে দুটি প্রতিষ্ঠান-মেসার্স আরুসা অ্যান্ড কোং (প্রাইভেট) লিমিটেড ও আনিকা শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড। তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার পরও আইনানুগ ব্যবস্থার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এর মধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে ওই বেনামি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার। 

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, আনিকা শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইবিএলের ১ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ারের ধারক ছিল; মার্চ ২০২৬-এর শেয়ার হোল্ডিং রিপোর্ট অনুযায়ী তার হাতে অবশিষ্ট আছে মাত্র শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ তদন্ত চলাকালেই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। গভর্নর বরাবর গত ১৯ আগস্ট দাখিল করা এক আবেদনে দাবি করা হয়েছে, একইভাবে আরুসা অ্যান্ড কোংয়ের হোল্ডিংও ধারাবাহিক বিক্রয়ে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে প্রায় ৫ শতাংশে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক শেয়ার হাতবদল হয়ে গেছে। যে শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎস নিয়েই মূল প্রশ্ন, সেই শেয়ার নগদায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে প্রতিবেদন ফাইলবন্দি থাকার সময়েই।

এক লাখ টাকার কোম্পানি আরুসা অ্যান্ড কোংয়ের জন্ম-ইতিহাসই প্রতিবেদনের সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষণ। প্রতিষ্ঠানটি ২০০১ সালের ৮ জুলাই চট্টগ্রামের রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ থেকে মাত্র ১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন পায়। নিবন্ধনের মাত্র ১৭ দিন পর ২৫ জুলাই ২০০১ তারিখে প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ইবিএলের শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানটি ইবিএলের ৭ লাখ ১৮ হাজার ৮০টি শেয়ার কেনে। যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ৩০ জুন ২০০৩ তারিখের স্থিতিপত্রে ওই বিনিয়োগের উৎস দেখানো হয়েছে মূলধন ১ লাখ টাকা, ক্যাপিটাল রিজার্ভ ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, ভেন্ডরস হিসাবে দায় ৩ কোটি ৪ লাখ ৪ হাজার ২৭০ টাকা এবং মুনাফা ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৬৩ হাজার ৯৪৮ টাকা। অর্থাৎ ১ লাখ টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করা একটি প্রতিষ্ঠান প্রথম সমাপ্ত অর্থবছরেই ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা মুনাফা এবং ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ক্যাপিটাল রিজার্ভ দেখায় যা প্রতিবেদনে ‘অস্বাভাবিক মর্মে প্রতীয়মান’ বলা হয়েছে। ২০০১ সাল থেকে ক্রয় ও স্টক ডিভিডেন্ড মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির হাতে এখন জমা হয়েছে ১৫ কোটি ৯১ লাখ ৫৩ হাজার ২৯২টি শেয়ার, যা ব্যাংকের মোট পরিশোধিত মূলধনের ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ৩০ জুন ২০২৪ তারিখে এর বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার কাগজপত্রও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রতিষ্ঠাকালে ফর্ম-৯ অনুযায়ী পরিচালক ছিলেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক নইমুল হক এবং শওকত আলী চৌধুরীর শ্যালিকা আনিকা তাহজীব। তৎকালীন ১ হাজার শেয়ারের ৯৫০টি ছিল নইমুল হকের নামে, ৫০টি আনিকা তেহজীবের নামে। ২০০৭ সালের ১০ এপ্রিল আনিকা তেহজীবের শেয়ার নইমুল হকের স্ত্রী সালমা শিরিনের নামে স্থানান্তর করা হয়। পরে অনুমোদিত শেয়ার ১ লাখে উন্নীত করে ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৫ হাজার শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হয় মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর কন্যা জারা নামরীনের নামে, আর ২০১৭ সালের ২০ জুলাই ওই শেয়ার ফের নইমুল হকের নামে স্থানান্তর করা হয়। 

প্রতিবেদনের সিদ্ধান্ত হচ্ছে ‘২০ জুলাই ২০১৭ তারিখ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর পরিবারের প্রত্যক্ষ মালিকানাধীন ছিল।’ পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, নইমুল হকের ৩০ জুন ২০২৫ তারিখভিত্তিক আয়কর রিটার্নে (আইটি ১০বি) সম্পদ অংশে দেখানো হয়েছে আরুসার মাত্র ৯৫০টি শেয়ার, যার মূল্য ৯৫ হাজার টাকা; অথচ তার প্রকৃত শেয়ার সংখ্যা ৫ হাজার ৯৫০টি। প্রতিবেদনের ভাষায়, তিনি আয়কর সম্পদ বিবরণীতে শেয়ার ধারণের তথ্য গোপন করেছেন এবং তার সম্পদ বিবরণীতে এমন কিছু নেই, যা দিয়ে এই বিপুল শেয়ার ক্রয় সম্ভব। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন দলকে জানিয়েছে, উল্লেখযোগ্য শেয়ার ধারণ করা সত্ত্বেও ব্যাংকে আরুসার কোনো প্রতিনিধি নেই এবং প্রতিষ্ঠানটি বা নইমুল হক সম্পর্কে ব্যাংকে কোনো তথ্যই সংরক্ষিত নেই। মেমোরেন্ডামে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ইবিএলের শেয়ার কখনো বিক্রি করেনি এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী তার পোর্টফোলিওতে অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ারই নেই। এ কারণে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুনাফার জন্য নয়, ‘প্রাথমিকভাবে মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর পক্ষে ইবিএলের শেয়ার ধারণ করার উদ্দেশ্যেই’ কোম্পানিটি গঠন করা হয়েছে এবং ওই শেয়ারের ‘আল্টিমেট বেনিফিসিয়াল ওনার’ তিনি নিজেই। 

আরুসা থেকে অর্থ স্থানান্তরের তথ্যও এসেছে প্রতিবেদনে। ৩০ জুন ২০১৪ তারিখভিত্তিক স্থিতিপত্র অনুযায়ী জমির বায়না বাবদ শওকত আলী চৌধুরীকে দেওয়া হয় ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালের স্থিতিপত্রেও অগ্রিম হিসেবে রয়ে গেছে। এক দশকেও কোনো জমি প্রতিষ্ঠানের নামে হস্তান্তর হয়নি, আদায়ের পদক্ষেপও রেকর্ডভুক্ত হয়নি। এর সঙ্গে ৩০ জুন ২০২৪ তারিখে তার মালিকানাধীন এস.এন. কর্পোরেশনকে ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। দুই খাতে মোট ৩৭ কোটি ১০ লাখ টাকা, যার পেছনে পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক বা চুক্তিভিত্তিক যৌক্তিকতা পাওয়া যায়নি। একই অর্থবছরে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ন্যাশনাল টি কোম্পানিতে (এনটিসি) ১০ কোটি ৭১ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে। 

অন্যদিকে আনিকা শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজের ৯৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক মো. জসিম উদ্দিন হলেও বাকি ২ শতাংশের মালিক শ্যালিকা আনিকা তাহজীব, যিনি ২০০৭ সাল পর্যন্ত আরুসার শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকও ছিলেন। আরজেএসসিতে দাখিল করা ফর্ম-১১-তে তার ঠিকানা ২৮, সুরসন রোড, চট্টগ্রাম। ব্যাংকে দেওয়া প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানার তথ্যেও শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের ঠিকানাও একই।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ধারা ১৪(ক)-এর উপ-ধারা (৪) অনুযায়ী, ১০ শতাংশের অতিরিক্ত শেয়ার এমন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করতে হবে, যেখানে তার বা পরিবারের সদস্যদের শেয়ার নেই। আর উপ-ধারা (৫) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে বিক্রি না করলে সেই শেয়ার সরকারের বা সরকার নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ন্যস্ত হবে এবং অভিহিত মূল্য (প্রতিটি ১০ টাকা) বা বাজারমূল্যের মধ্যে যেটি কম, সেই মূল্য পরিশোধ করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালে বিসিসিআই থেকে ইবিএলে রূপান্তরের সময় তার ইকুইটির বিপরীতে শেয়ার বরাদ্দ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রি না করে তিনি আইনের ওই নির্দেশনা ‘সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন’। ব্যাংকের মালিকানা ও শেয়ারসংক্রান্ত কার্যাবলি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২-এর আওতাধীন হওয়ায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে ওই বিভাগকে অনুরোধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। 

পাশাপাশি অভিযোগপত্রে থাকা অন্য বিষয়গুলো, যেমন পুত্রের মালিকানাধীন জারান অফ ডক লিমিটেডের নামে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এ আরাফাত এবং বিতর্কিত ব্যাংক লুটেরা নাফিস শারাফাত এর সিডিনেট ও ফ্রন্টিয়ার্স টাওয়ার্সের শেয়ার হস্তান্তরের বিনিময়ে স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্সকে ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান, শিল্প ঋণের অর্থে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা মার্সিডিজ-বেঞ্জ এএমজি জি৬৩ গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার, পলাতক ঋণখেলাপি মুজিবুর রহমান মিলনের সিঙ্গাপুরের ঠিকানায় মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রীর নামে ৩২ লাখ ডলারের সম্পদ এবং সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধান ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অনুরোধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে অনুমোদিত তদন্তের পরও ব্যবস্থা না নেওয়া এবং তথ্য ফাঁসের অভিযোগ তুলে গত ১৯ আগস্ট গভর্নর বরাবর আবেদন দাখিল করেছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যিনি গত ২৯ মার্চ মূল অভিযোগটি করেছিলেন। আবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের বিষয়বস্তু অভিযুক্ত পক্ষের কাছে ফাঁস হওয়ার সুস্পষ্ট আলামত রয়েছে এবং তার সরাসরি পরিণতিতে বেনামি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দ্রুত বিক্রি করে ‘সুপরিকল্পিত সেইফ এক্সিট’ বাস্তবায়িত হচ্ছে। যা তদন্তাধীন বিষয়ের আলামত বিনষ্ট এবং ভবিষ্যতে সম্পদ পুনরুদ্ধার অসম্ভব করে তোলার প্রয়াস। আবেদনে বিএফআইইউ কর্তৃক ইতঃপূর্বে দুই দফায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব অবরুদ্ধ করার পরও কোনো মামলা বা চূড়ান্ত ব্যবস্থা না নিয়ে হিসাব ‘নীরবে অবমুক্ত’ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে প্রথম দফার নিষ্ক্রিয়তার মূল্য রাষ্ট্র ইতোমধ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলারে পরিশোধ করেছে। 

অভিযোগের বিষয়ে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান আনিস আহমেদ বলেন, কেউ যদি নিয়ম বহির্ভূত শেয়ার বিক্রয় বা ক্রয় করেন সেটা তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনা হবে। বিষয়টি এখনো তার কাছে আসেনি এবং বোর্ডেও বিষয়টি উপস্থাপিত হয়নি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে অপরাধের প্রমাণ পেলে অবশ্যই তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। 

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ আহমেদ খান বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে এখনো ব্যাংকের তরফ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি, তবে অভিযোগ আসলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে মো: শওকত আলী চৌধুরীর মুঠোফোনে একাদিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!