আইনজীবীর কাছে চাঁদা না পেয়ে জমি দখলের চেষ্টা
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাদিম মাহমুদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না দেওয়ায় জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে করা নালিশি দরখাস্তটি মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে নালিশি দরখাস্তটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকা এ আদেশ দেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী।
.png)
আদালতে দাখিল করা নালিশি দরখাস্তে নাদিম মাহমুদ অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েক দফায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে ও তার পরিবারকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ এবং জমি দখলের হুমকি দেওয়া হয়। পরে একদল লোক তার মালিকানাধীন ২৫ শতাংশ জমিতে প্রবেশ করে গাছপালা ও মাটি কেটে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন খালপাড় এলাকায় বাদীর বাড়ির সামনে তার পথরোধ করেন কয়েকজন। এ সময় ১ ও ২ নম্বর আসামির নির্দেশে ৩ থেকে ৬ নম্বর আসামি তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা না দিলে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ ও জবরদখলের হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ৭ থেকে ৯ নম্বর আসামি একইভাবে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা না দিলে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করার ভয়ভীতি দেখানো হয়।
সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১ থেকে ৯ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি বাদীর মালিকানাধীন জমিতে আসেন বলে নালিশি দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, তার বাবা ও জেঠার নামে থাকা সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া ওই জমির পরিমাণ ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে আরএস খতিয়ান নম্বর ১৩৪৯ এবং আরএস দাগ নম্বর ৩২৪২-এর ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ করে মোট ২৫ শতাংশ জমি রয়েছে। দলিল নম্বর ৫৬২২ ও ৫৬২০, যার তারিখ ১৭ অক্টোবর ১৯৮৮।
নালিশি দরখাস্তে আরও বলা হয়, আসামিরা ওই জমিতে প্রবেশ করে গাছপালা ও মাটি কাটতে থাকেন এবং সেখানে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। বাদীর পরিবারের সদস্য ও সাক্ষীরা এতে বাধা দিলে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় তারা গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিদের কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময়ও আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে দাবি করেন বাদী।
এ ঘটনায় ঘটনার দিন ৫ সেপ্টেম্বর থানায় গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলে নালিশি দরখাস্তে উল্লেখ করেছেন নাদিম মাহমুদ। পরে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে আদালতে মামলা করতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে তিনি জানান।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নাদিম মাহমুদের করা নালিশি দরখাস্তে মো. জনি (৩৮), মো. রুবেল (৩৫), মো. দেলোয়ার (৪০), মো. বাবুল (৪২), মো. আবু তাহের (৪৫), মো. আলীম (৪০), মো. নূর হোসেন (৪৫), মো. ইমান আলী এবং মো. ইয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া কানা শুকুর ও অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ
নালিশি দরখাস্তের সঙ্গে দেওয়া বাদীর জবানবন্দি ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালত এ নির্দেশ দেন।
আদেশে আদালত বলেন, বাদীর জবানবন্দি এবং দাখিল করা অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। সার্বিক পর্যালোচনার পর বাদীর আনা অভিযোগ আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হলো।
মামলাটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৮৫, ৪২৭, ৪৪৭, ১৪৩, ১৪৭, ১৪৯, ৫০৬(২), ১২০-বি ও ৩৪ ধারায় দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।