ঢাকা,  সোমবার   ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

মানিলন্ডারিং মামলায় সাহেদ গ্রেপ্তার

আদালত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:০৩, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মানিলন্ডারিং মামলায় সাহেদ গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

৭১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

Advertisement

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি।

এদিন আদালতে সাহেদের আইনজীবী দবির উদ্দিন তার জামিনের আবেদন করেন। তবে ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়নি।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৭ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে সাহেদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াতুল ইসলাম মোহাম্মদ সাহেদ ও তার স্ত্রী মিছেস সাদিয়া আরবীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে সাদিয়া আরবী স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব দেন। তবে যাচাই-বাছাই ও তদন্তে তার নামে ৭৬ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পারিবারিক ব্যয় বিবেচনায় নিলে সাদিয়া আরবীর অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকা। কিন্তু আয়কর নথিতে তার অর্জিত আয়ের পরিমাণ দেখানো হয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফলে ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদ আয়কর নথির বাইরে এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে তদন্তে উঠে আসে।

তদন্তে আরও বলা হয়, সাদিয়া আরবীর নিজস্ব কোনো নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস ছিল না। তার স্বামী মোহাম্মদ সাহেদ অবৈধ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ তার নামে হস্তান্তর, রূপান্তর ও গোপন করে সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১), মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সাহেদ বিভিন্ন জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। অস্ত্র ও চেক ডিজঅনারসহ বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে একাধিক আদালতের পরোয়ানাও রয়েছে।

দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেলেও সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ঋণখেলাপি ও চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা সংক্রান্ত পরোয়ানায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় সাজা ও পরোয়ানা থাকায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!