গ্রাম বাঙলায় কাক আজ হারিয়ে যেতে বসেছে
অতীতে গ্রাম বাঙলায় ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই কাকদের কা-কা ডাকে লোকালয় মুখোর হয়ে উঠতো। ঘুম থেকে জেগে উঠত আবাল বৃদ্ধ বনিতা। যোগ দিতো যার যার কাজে।
আজ কালের আবর্তে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রাম বাঙলায় ডাষ্টবিন নামে খ্যাত, কা-কা শব্দের ধারক কাক আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। জানাযায়, পৃথিবীতে ৪০ প্রকৃতির কাক থাকলেও সিরাজগঞ্জে সাধারনত দুই প্রকার দুই প্রকারের কাক বেশী দেখা যেতো। দাড় কাক আকারে বড়, আর পাতী কাক বেশ ছোটো হয়।
কাককে পাখি জগতের সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান পাখি বলে মনে করা হয়। কাকের বুদ্ধির একটি গল্প কলসের মধ্যে পাথর ফেলে পানি ঠোঁটের নাগালে আনার গল্প শোনা যায়। কাকদের কাছ থেকে মানুষ অনেক উপকার পায়। এরা হাঁস-মুরগির ছানা, পোকামাকড়, ফলমূল, বড় বড় ফুলের মধু, ফসলের বীজ, পাখির ডিম, সাপ, ব্যাঙ ইত্যাদি খায়। তাছাড়া মরা ইদুর, মরা বিড়াল, পঁচা-বাসী খাবার নিয়মিত ভাবে পরিস্কার করে, কারণ এগুলোই তাদের খাবার। আর এসব খেয়ে হজম করতে কোন বেগ পেতে হয় না। নোংরা জিনিস খেলেও শরীর নোংরা রাখে না। নিয়মিত গোছল করে। কাকদের ডাষ্টবিন ও বলে থাকে কেউ কেউ।
কাকেরা নির্জন কোন গাছ ঠিক করে রাখে রাত কাটানোর জন্য আর সন্ধ্যা হলেই ঐ গাছের ডালে গিয়ে বসে। এরা শীতের রাতে এবং প্রবল বৃষ্টিতেও গাছের ডালে বসে থাকে। এরা বাসা তৈরি করে প্লাস্টিক, ফিতা, রশি, কাপড়ের টুকরা, উল, তুলা, লোহার তার, পলিথিন অর্থাৎ রাস্তায় পড়ে থাকা পরিত্যক্ত প্রায় সব কিছু দিয়েই অগোছালো ভাবে। পাখির মধ্যে ফেইচকা, পেচা, চড়ুই, চিল সবাই চেষ্টা করে কাকের ডিম নষ্ট করার জন্য।
কিন্তু কাকের কড়া পাহারায় কারোর সাধ্য থাকে না ডিম ও বাচ্চার কোন ক্ষতি করার। আবার কোনো দুর্ঘটনায় যদি কাকের ছোটো বাচ্চা বাসা থেকে নিচে পরে যায়, তখনো কাকেরা দলগতো ভাবেই কাকা শব্দে এলাকা মাতিয়ে তোলে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকা ব্যতীত উষ্ণমন্ডলীয় সব মহাদেশ এবং বেশ কিছু দ্বীপ অঞ্চলে কাকের বিস্তার রয়েছে। কাক পরিবেশ রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। বেশির ভাগ প্রজাতির কাকের আয়ুষ্কাল ১০-১৫ বছর। এরা পরিবেশের বড় ধরণের ভূমিকা পালন করে থাকে।