ঢাকা,  বুধবার   ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মদদ দাতাদেরও বিচারের দাবি

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১২, ৪ নভেম্বর ২০২৬
সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মদদ দাতাদেরও বিচারের দাবি
সুন্দরবনের বনদস্য নির্মূলের দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে বনদস্যুদের অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির শিকার হচ্ছেন জেলেরা। দস্যুদের ভয়ে অনেকেই জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মাছ ধরা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে খুলনার কয়রায় মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কার্যালয়ের সামনে উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বনজীবীরা অংশ নেন।

সংগঠনের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল ইসলাম, কপোতাক্ষ কলেজের সাবেক অধ্যাপক আ.ব.ম. আব্দুল মালেক, সংগঠনের সাবেক আহ্বায়ক মো. আনোয়ার হোসেন, কয়রা বাজার কমিটির সভাপতি সরদার জুলফিকার আলম, সুজনের সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলাম, কপোতাক্ষ কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিদেশ রঞ্জন মৃধা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন, জামায়াত নেতা মাস্টার সাইফুল্লাহ হায়দার, মোল্যা শাহাবুদ্দিন শিহাব ও আলহাজ দ্বিন মোহাম্মদ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন সাংবাদিক মো. কামাল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান, মানবাধিকার ব্যুরো কয়রার সাধারণ সম্পাদক জিএম মোনায়েম বিল্লাহ, কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুল ইসলাম, সমাজসেবক আসাদুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি রাসেল আহম্মেদ, ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম আজু এবং স্থানীয় জেলে আবু মুছা, মোসানুর ও রবিউল ইসলামসহ অনেকে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করতে যাওয়া জেলেদের জন্য বনদস্যুদের অপহরণ ও চাঁদাবাজি বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক জেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। দস্যুদের ভয়ে জেলেরা বনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এতে তাদের জীবিকা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, শুধু বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা, অর্থের জোগানদাতা ও সহযোগীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এসব মদদদাতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বনদস্যুতা নির্মূলের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।

তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বন রক্ষা করা একই সূত্রে গাঁথা। এ জন্য সুন্দরবনের নদী-খালে নিয়মিত টহল, সমন্বিত অভিযান ও জেলেদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

মানববন্ধন থেকে সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা, জেলে ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দস্যুদের মদদদাতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সুন্দরবন ও উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/খুলনা/এমকে
ট্যাগ: খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!