ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

প্লাস্টিক দূষণ রোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৫১, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্লাস্টিক দূষণ রোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন ডিসি জাহিদ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম নগরের পরিবেশ সুরক্ষা ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে বিনামূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের সুযোগ করে দেন তিনি। শুধু তাই নয় এসব প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগও নেন ডিসি জাহিদ। 

৩১ অক্টোবর, শনিবারএ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে ফয়’স লেকসংলগ্ন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ও আশপাশের পাহাড়ি ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. শাহাদাত হোসেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার মানসিকতা গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনামূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারবে। সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চিড়িয়াখানার সাধারণ প্রবেশ টিকিটের মূল্য ৭০ টাকা।

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় নতুন করে জেব্রা ও কুমির আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুদের মুঠোফোনের পর্দায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. শাহাদাত হোসেন বলেন, একক কোনো সংস্থার পক্ষে পুরো নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং নগরবাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি ফয়’স লেকসংলগ্ন চিড়িয়াখানা, পাহাড়ি ছড়া ও প্রাকৃতিক জলাধার দূষণমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ফুটপাত ও সড়ক চলাচলের উপযোগী রাখতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল ও ডাবের খোসা যত্রতত্র না ফেলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও আঙিনায় কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক করতে জাপান থেকে ২০টি কমপ্যাক্টর ডাম্প ট্রাক সিটি করপোরেশনের বহরে যুক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, গত ২৫ জুলাই পরিচালিত অভিযানে তিন হাজারের বেশি সরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি বর্গফুট এলাকা থেকে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এতে ছয় হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দুই হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে কাজীবাড়ি পুকুর, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রায় ১০০টি হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্নাঘর ও আশপাশ পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান (সি), পিসিএসসি, বিএন; জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/চট্টগ্রাম/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!