চরফ্যাশনে এইচএসসি-আলিমে হতাশার ফল, এক কলেজে পাস করেনি কেউ
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা অঞ্চলের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে মিশ্র চিত্র। এর মধ্যে একটি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে দুটি মাদরাসায় তুলনামূলক ভালো ফল হলেও সামগ্রিক ফলাফলে হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, চরমানিকা জালাল আহমেদ কলেজ থেকে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ আইচা কলেজ থেকে ২৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪১ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ২১৬ জন। কলেজটির পাসের হার ১৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
তবে মাদরাসা পর্যায়ে কিছুটা ভালো ফল করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি। দক্ষিণ চর আইচা রব্বানিয়া আলিম মাদরাসা থেকে ২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই অঞ্চলটির একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জিত হয়েছে।
এ ছাড়া মাঝের চর ফাজিল মাদরাসা থেকে ২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। তবে এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
চারটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট ৩১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ২২৭ জন। সম্মিলিত পাসের হার ২৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। চার প্রতিষ্ঠানে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন।
ফলাফলের এমন চিত্রে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ কলেজ দুটির ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের জবাবদিহি এবং শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী বছরগুলোতেও এ অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়ন কঠিন হয়ে পড়বে।