ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
লালমোহনে হত্যার শিকার যুবদল নেতার মেয়ের আহাজারি

১২ বছরের রিতুর আর্তনাদ; ‘আমার বাবারে আইন্না দেও’

হাসান পিন্টু, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশিত: ০১:২৮, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১২ বছরের রিতুর আর্তনাদ; ‘আমার বাবারে আইন্না দেও’
লালমোহনে বাবার মৃত্যুতে মেয়ে রিতুর আহাজারি, ইনসেটে বাবা মো. ফিরোজ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘আমার বাবারে আইন্না দেও, আমার বাবার কী দোষ ছিল? আমগো কী হইবো, আমরা কেমনে থাকমু?’- বাবার মৃত্যু শোকে এমন বুকফাটা আর্তনাদ ১২ বছরের শিশু মোসা. রিতুর। কখনো দিগ্বিদিক ছুটছে, কখনো বাবার জামা-কাপড় বুকে জড়িয়ে বিলাপ করছে সে। কিন্তু তার কান্না শুনে আর ফিরবে না বাবা। ঘাতকের ধারালো দায়ের কোপে নিভে গেছে তার বাবার জীবনপ্রদীপ। বাবাকে হারিয়ে রিতুর এমন আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। শোকে স্তব্ধ স্বজনরা, দিশেহারা পুরো পরিবার।

শনিবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার সুপারম্যাক্স হেলথ কেয়ার লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিতুর বাবা মো. ফিরোজ (৪৫)। এর আগে শুক্রবার দুপুরে শিমগাছ রোপণকে কেন্দ্র করে একই বাড়ির বাসিন্দা মো. কাজলের ধারালো দায়ের কোপে গুরুতর আহত হন তিনি। নিহত ফিরোজ ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারের দোকান এলাকার ডাক্তার বাড়ির কাশেম আলীর ছেলে। তিনি কালমা ইউনিয়ন (উত্তর) যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক ফিরোজের মৃত্যুতে পরিবারটি এখন গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন: লালমোহনে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ফিরোজ একই বাড়ির কাজলের ঘরের পাশে নিজের জমিতে শিমগাছ রোপণ করে সেখানে বাঁশের ঝোপ দেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর কাজলের স্ত্রী জান্নাত সেই ঝোপের বাঁশ কেটে ফেলেন। নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে বিষয়টি দেখে জান্নাতকে বাধা দেন ফিরোজ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জান্নাতের স্বামী কাজল ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিরোজকে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। পরে গুরুতর আহত ফিরোজকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্বজনরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। শনিবার বিকেলে সেখানেই লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূরুল আমিন বলেন, শনিবার বিকেলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফিরোজ মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাজলকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ভোলা
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!