পাওনা টাকা চাওয়ায় দোকানে হামলা-ভাঙচুর
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মিজি বাজারে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও ক্যাশে থাকা টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দোকানি ইমরান মিজি (৪৫) গুরুতর আহত হয়ে চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামুন মাঝির (৪০) কাছে ইমরান মিজির ১৯ হাজার ৯৫০ টাকা পাওনা রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে ওই টাকা পাওনা বলে দাবি ইমরানের। মামুন মাঝি দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা পরিশোধ না করে অন্য দোকান থেকে মালামাল কেনাকাটা করায় ইমরান তার কাছে পাওনা টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বাজার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক মেম্বার ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি বিষয়টি প্রাথমিকভাবে মীমাংসাও করে দেন।
.png)
অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর মামুন মাঝি ও তার ভাইয়েরা একদল বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে ইমরান মিজির দোকানে হামলা চালান। অভিযোগকারীদের দাবি, মামুন মাঝি দক্ষিণ আইচায় ফোন করে ১০ থেকে ১৫ জনকে ডেকে আনেন। পরে তারা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও মোটরসাইকেলের চেইন নিয়ে ইমরানের ওপর হামলা চালান।
এ সময় দোকানের ক্যাশ ও বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুরের পাশাপাশি ক্যাশ ভেঙে টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় ইমরান মিজি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ইসমাইল মেল্লা (৪৭), পিতা—দেলোয়ার হোসেন মোল্লা এবং মহিউদ্দিন হাওলাদার (৪০), পিতা—হানিফ হাওলাদার আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় বহিরাগত ভুট্টু, মনির, সবুজ এবং মামুন মাঝি (৪০), বিল্লাল (২২), রমিজ (২৭), হেল্লাল (২০), সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত মামুন মাঝির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এখনো দক্ষিণ আইচা থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে ঘটনার সময় থানায় ফোন করে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেছে।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবির বলেন, মৌখিক সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতরা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তারা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”